নিরাপত্তা হুমকিতে মাইক্রোসফটের সার্ভার! র‍্যানসমওয়্যারের দাপটে অচল শত শত সংস্থা

মাইক্রোসফটের শেয়ারপয়েন্ট সার্ভার সফটওয়্যারে বিদ্যমান দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকারদের আক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পূর্বে যেখানে শুধু তথ্য চুরির ঘটনা ঘটতো, এখন সেখানে সরাসরি র‍্যানসমওয়্যার হামলা চালিয়ে নেটওয়ার্ক অচল করে দেওয়া হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্থাকে চরম বিপদে ফেলছে।

‘স্ট্রোম-২৬০৩’ হ্যাকার গ্রুপ ও র‍্যানসমওয়্যারের বিস্তার
মাইক্রোসফট তাদের এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে যে, সম্প্রসারিত বিশ্লেষণ ও হুমকির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হয়েছে “স্ট্রোম-২৬০৩” নামে পরিচিত একটি হ্যাকার গ্রুপ এই দুর্বলতাকে ব্যবহার করে র‍্যানসমওয়্যার ছড়িয়ে দিচ্ছে। র‍্যানসমওয়্যার হামলায় হ্যাকাররা একটি সংস্থার সার্ভারে প্রবেশ করে সমস্ত ফাইল এনক্রিপ্ট বা লক করে দেয় এবং সেগুলোর মুক্তির বিনিময়ে ডিজিটাল মুদ্রায় মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে।

এই অভিযানের ধরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত, রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকাররা গোপনে তথ্য চুরি করেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু র‍্যানসমওয়্যার হামলা সরাসরি সার্ভারকে অচল করে দেয়, যা আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ও মূল্যায়নের চ্যালেঞ্জ
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা আই সিকিউরিটি জানিয়েছে, এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০০টি সংস্থা আক্রান্ত হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগেও এই সংখ্যা ছিল ১০০-এর আশেপাশে।

তবে, আই সিকিউরিটির প্রধান হ্যাকার ভাইশা বার্নার্ড সতর্ক করে বলেছেন যে, এটি প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন কোনো স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায় না যা স্ক্যান করে শনাক্ত করা সম্ভব। এর অর্থ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাব ও সূত্রপাত
এই সাইবার হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট-এর একটি সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের অন্য সার্ভারগুলোও বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই খবর প্রকাশ করে।

এই হামলার সূত্রপাত হয় যখন মাইক্রোসফট তাদের শেয়ারপয়েন্ট সার্ভারে একটি নিরাপত্তা দুর্বলতাকে সঠিকভাবে ‘প্যাচ’ করতে ব্যর্থ হয়। সেই নিরাপত্তা ফাঁক ব্যবহার করেই হ্যাকাররা সার্ভারে প্রবেশের সুযোগ পায় এবং এই বিধ্বংসী হামলা চালায়।

চীনের দিকে অভিযোগ ও চীনের পাল্টা দাবি
মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতে, এই হামলার পেছনে চীনের হ্যাকাররা জড়িত রয়েছে। তবে, চীন সরকার এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে, যা এই সাইবার যুদ্ধের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকেও তুলে ধরেছে।

এই ঘটনা আবারও বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।