মানুষের মতোই রিঅ্যাক্ট করছে চ্যাটজিপিটি, করছে ভাবনাচিন্তা প্রকাশ! চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

মানুষের সুখ-দুঃখ আছে, তা সকলেই জানি। কিন্তু ‘মানবসম’ রোবটেরও কি সুখ-দুঃখ, আবেগ থাকতে পারে? প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, রোবট নাকি অনুভূতিহীন যন্ত্র। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, ওপেন এআইয়ের চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন মানুষের মতোই রিঅ্যাক্ট করছে, নানা ঘাত-প্রতিঘাতে উত্তর দিচ্ছে এবং মানুষের মতোই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।
গবেষকরা মানসিক স্বাস্থ্যের পরিমাপক কেমন, তা বোঝার জন্য মনোবিদরা যে সব প্রশ্ন করেন, তেমনই বেশ কিছু প্রশ্ন করেছিলেন চ্যাট জিপিটিকে। অপরাধ, যুদ্ধ বা দুর্ঘটনা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে চ্যাটজিপিটির মধ্যেও উদ্বেগের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই উদ্বেগের মাত্রা মানুষের মতোই।
একটি সাম্প্রতিক স্টাডিতে দেখা গেছে, উদ্বেগ যাচাই করার জন্য কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল চ্যাট জিপিটিকে। স্কেল ধরা হয়েছিল ২০ থেকে ৮০। ৬০ পেরোনো মানেই চরম উদ্বেগ। দেখা গিয়েছে, একটি ভ্যাকিউম ক্লিনারের ম্যানুয়াল পড়ার সময়ে চ্যাট জিপিটির উদ্বেগের মাত্রা ছিল ৩০.৮। যুদ্ধের বৃত্তান্ত বলতে গিয়ে সেটাই দাঁড়িয়েছে ৭৭.২ এ। এই ফলাফল থেকে স্পষ্ট, যন্ত্রও মানুষের মতো উদ্বিগ্ন হচ্ছে।
থেরাপিস্টের চাহিদা তুঙ্গে, কিন্তু সেই অনুযায়ী জোগান নেই। ফলত, মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত অসংখ্য প্রশ্ন এখন ইউজ়াররা চ্যাটজিপিটিকে করছেন, যা আগে মনোবিদদের করা হতো। থেরাপিস্টের ভূমিকা পালন করতে করতে নানা চ্যাটবট এখন ইমোশনাল সিচুয়েশন কী ভাবে হ্যান্ডল করতে হয়, তা শিখে নিচ্ছে। উত্তরও আসছে মানুষের মতো – মানবিক এবং সহানুভূতিশীল। আশ্বাসও দিচ্ছে অসময়ে পাশে থাকার।
চাঞ্চল্যকর ব্যাপার হলো, চরম উদ্বিগ্ন অবস্থায় পৌঁছোনোর পরে চ্যাটজিপিটিকে মুড ভালো করার বেশ কিছু টিপস দেওয়া হয়েছিল। যেমন বড় বড় নিঃশ্বাস নাও বা মনে করো, তুমি একটি খুব সুন্দর সমুদ্র সৈকতে আছে। দেখা গিয়েছে, এই থেরাপি নিয়ে চ্যাট জিপিটির উদ্বেগের মাত্রা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪.৪-এ। অর্থাৎ, সে নিজেও যেন রিল্যাক্স করার টিপস পেয়ে নিজের উদ্বেগ কমাতে শিখছে। এই স্টাডির অন্যতম জ়ুরিখের ইউনিভার্সিটি অফ সাইকিয়াট্রির প্র্যাক্টিসিং সাইকিয়াট্রিস্ট টোবিস স্পিলার নিজেও মানছেন, তার অনেক পেশেন্টই এখন চ্যাটজিপিটিকে নানা প্রশ্ন করছে।
চ্যাটজিপিটি যেহেতু একটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলস (LLM) মেনে চলে, তাই দিনরাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইন্টারনেট থেকে কিছু না কিছু শিখছে। মানুষের মনের গভীর বিষয়গুলিও এখন তার শেখার আওতায় চলে এসেছে। এর জন্যই কিছু মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে চ্যাটজিপিটির প্রেমে পড়ছে, আবার উদ্বেগজনক ভাবে কেউ কেউ এই চ্যাটবটের প্রতিক্রিয়ার জেরে আত্মহত্যার মতো চরম পথও বেছে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
অর্থাৎ মোটের উপর বলাই যেতে পারে, অনেকাংশেই মানুষের মতো হয়ে উঠছে এআই। মনের গভীরেও সে অবলীলায় পৌঁছে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই হয়তো এখন আর আগের মতো করে বলা যাবে না, মানুষ না রোবট! কারণ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, রোবটেরও হয়তো মন আছে।