বেআইনিভাবে মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় যুবকের গোপনাঙ্গে লাথি, ভর্তি হাসপাতালে!

জমি থেকে বেআইনিভাবে বলপ্রয়োগ করে মাটি কেটে নেওয়ার প্রতিবাদ করায় এক যুবকের উপর নারকীয় অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী ও শাসকদলের এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে যুবককে গোপনাঙ্গে লাথি মারা এবং বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন ওই যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার নদীয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের টেংরিডাঙ্গা এলাকায়।

আহত যুবকের নাম দীপঙ্কর মণ্ডল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি পেশায় একজন ইটভাটার মালিক এবং গয়েশপুর এলাকায় তার বেশ কয়েক বিঘা জমি রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকার তৃণমূল নেতা আনোয়ার হোসেন মণ্ডল এবং তার দলবল জোরপূর্বকভাবে দীপঙ্করের জমি থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে নিতেন। দীপঙ্কর মণ্ডল এর আগে একাধিকবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সুরাহা পাননি বলে তার অভিযোগ।

শনিবার আনোয়ার হোসেন মণ্ডল এবং তার দলবল আবার দীপঙ্করের জমি থেকে মাটি কাটতে যান। সেসময় দীপঙ্কর তাদের বাধা দিতে গেলে আনোয়ার হোসেন এবং তার দলবল হঠাৎ করে তার উপর আক্রমণ শুরু করে। অভিযোগ, গামছা দিয়ে দীপঙ্কর মণ্ডলের গলা টিপে ধরা হয়। এরপর তাকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তার যৌনাঙ্গে পশুর মতো লাথি মারতে থাকে অভিযুক্তরা। মারতে মারতে তাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ।

এই ঘটনার পর জখম দীপঙ্কর মণ্ডলকে উদ্ধার করে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই হাসপাতালের বেডে শুয়ে তিনি অভিযোগ করেন, “ওই তৃণমূল নেতা প্রশাসনের একরকম সাহায্য নিয়ে প্রতিদিন জোরপূর্বকভাবে আমার জমি থেকে মাটি কেটে নিত। আমি প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় আজ দলবল এনে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে সে। পুলিশ প্রশাসনকে এর আগেও অনেকবার জানিয়েছি, কিন্তু শাসকদলের নেতা হওয়ায় তার পক্ষে সকলে, তাই কোনও সুরাহা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, তার গোপনাঙ্গে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে এবং তিনি এখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শান্তিপুর থানার পুলিশ বাহিনী। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের কাছ থেকে আহত অবস্থায় দীপঙ্কর মণ্ডলকে কোনও রকমে উদ্ধার করে। এরপর দ্রুত তাকে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গয়েশপুর পঞ্চায়েতের বিজেপি নেতা পাপুল পাল বলেন, “প্রকাশ্যে এভাবে জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া এবং প্রতিবাদ করায় একজন নিরীহ যুবককে প্রায় প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করাটা দুষ্কৃতীমূলক কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ধরনের কাজ মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

অন্যদিকে, দলীয় নেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনার নিন্দা করে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি কানাই দেবনাথ বলেন, “অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এর আগেও আমরা একাধিক অভিযোগ পেয়েছিলাম। আমরা বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছি এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দলগতভাবে যাতে ওই নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেয় সেই কারণে আমরা লিখিত অভিযোগ থানায় জানাচ্ছি।”

জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে শাসকদলের নেতার বিরুদ্ধে ওঠা এই মারধর এবং প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ নদীয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশের তদন্ত এবং তৃণমূলের দলীয় পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।