X-এখন মাস্কের আরেক কোম্পানি Xai-এর মালিকানায়, কিন্তু কেন? জেনেনিন কারণ?

মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অধিগ্রহণ করেছে তারই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর স্টার্টআপ এক্সএআই। তিন হাজার তিনশ কোটি ডলারের বিনিময়ে এই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
এই অধিগ্রহণের বিষয়ে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে মাস্ক লিখেছেন, “এই চুক্তির ফলে এক্সএআইয়ের মূল্য এখন আট হাজার কোটি ডলার এবং এক্স-এর মূল্য তিন হাজার তিনশ কোটি ডলার।”
চুক্তি নিয়ে মাস্কের বার্তা:
মাস্ক আরও লেখেন, “এক্সএআই ও এক্স-এর ভবিষ্যৎ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা ডেটা, মডেল, হিসাব, বণ্টন ও মেধাকে একত্রিত করার পদক্ষেপ নিয়েছি। এই অধিগ্রহণ এক্সএআইয়ের উন্নত এআই সক্ষমতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে এক্স-এর বিশাল ডেটার সমন্বয় ঘটিয়ে অসীম সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।”
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির বেশিরভাগ সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও অস্পষ্ট। যেহেতু উভয় কোম্পানিই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, তাই তাদের আর্থিক বিষয় জনসাধারণের কাছে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নেই। এক্স ব্যবহারকারীদের জন্য এই পদক্ষেপ কোনও পরিবর্তন আনবে কিনা, সে বিষয়েও এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে টুইটার অধিগ্রহণের পর মাস্ক কোম্পানির বহু কর্মীকে ছাঁটাই করেন এবং প্ল্যাটফর্মটির কনটেন্ট মডারেশন ও ব্যবহারকারী যাচাইকরণের নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন। এমনকি প্ল্যাটফর্মটির নামও পরিবর্তন করে ‘এক্স’ রাখেন তিনি।
মাস্কের কৌশল:
টুইটার কেনার এক বছর পরই মাস্ক তার এআই নির্ভর কোম্পানি এক্সএআই চালু করেন। তার বিতর্কিত কনটেন্ট নীতির কারণে সেই সময় অনেক বিজ্ঞাপনদাতা প্ল্যাটফর্মটি ছেড়ে যান, যার ফলে এক্স-এর রাজস্ব দ্রুত হ্রাস পায়।
তবে বর্তমানে এক্স কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানি নয়, এটি একটি বিশাল আকারের রিয়েল টাইম ডেটা ইঞ্জিন। প্রায় ৬০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারী তাদের কথোপকথন, মতামত ও বাস্তব বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার এক অবিচ্ছিন্ন তথ্য প্রবাহ তৈরি করেছে এক্স-এ, যা এক্সএআইয়ের বিভিন্ন এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য এক মূল্যবান সম্পদ।
ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক ও গুগলের মতো শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এক্সএআইয়ের এই মুহূর্তে এই ডেটার প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে বেশিরভাগ এআই কোম্পানি উচ্চমানের রিয়েল টাইম ডেটা পাওয়ার জন্যstruggling করছে। সেক্ষেত্রে এক্সএআই এখন এমন একটি সুবিধা পেল, যা তার প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর নেই – মানুষের মিথস্ক্রিয়ার এক জীবন্ত গবেষণাগার, এই এক্স প্ল্যাটফর্মটি। এর অর্থ হতে পারে:
এক্সএআই আরও উন্নত এবং মানুষের মতো এআই মডেল তৈরি করতে সক্ষম হবে।
বিভিন্ন রিয়েল টাইম অ্যাপ্লিকেশনে কোম্পানিটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে।
স্টার্টআপটি যেকোনো স্থানে পাওয়া যায় এমন আপ-টু-ডেট তথ্যের ওপর তাদের এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষমতা পাবে।
এরপর কী ঘটতে পারে:
এই অধিগ্রহণ কেবল এক্সের ভেতরে একটি এআই সহকারী তৈরির দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে না, বরং এটি আরও বড় কিছুর ভিত্তি স্থাপন করছে। যেমন:
এআই চালিত কনটেন্ট তৈরি ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে উন্নত মিথস্ক্রিয়া।
এক্স প্ল্যাটফর্মের কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আরও বেশি কিছুতে পরিণত হওয়া।
নিয়ন্ত্রণ কৌশল সরাসরি স্টার্টআপটির হাতে থাকা।
এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক্সএআই তাদের চ্যাটবটের সর্বশেষ সংস্করণ গ্রক ৩ চালু করে। তারা চীনা এআই কোম্পানি ডিপসিক ও মাইক্রোসফট সমর্থিত ওপেনএআইয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতার চেষ্টা করছে। এআই দুনিয়ায় তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে উন্নত এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য এক্সএআই তাদের ডেটা সেন্টারের সক্ষমতাও বৃদ্ধি করছে।
এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে মাস্ক ওপেনএআই অধিগ্রহণের জন্য একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ৯ হাজার ৭৪০ কোটি ডলারের চুক্তি করার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়।
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক ওয়াশিংটনে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উঠে এসেছেন। মাস্ক ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (ডিওজিই)-এর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে তিনি সরকারি ব্যয় কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
মোদ্দা কথা, মাস্কের এই পদক্ষেপ কেবল আরেকটি প্রযুক্তিগত একত্রীকরণ নয়। এটি একটি সুচিন্তিত কৌশল, যা এক্সএআইকে এআই-এর অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে এবং এক্স-এর ডেটা ব্যবহার করে তাদের এআই মডেলকে আরও শক্তিশালী করবে। মাস্ক কেবল ওপেনএআই, গুগল ও অ্যানথ্রোপিকের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করছেন না, বরং এই খেলার নিয়মও পরিবর্তন করে দিচ্ছেন।