ঘরে বসেই মিলবে পঞ্চায়েতের ৭ শংসাপত্র, হয়রানি কমবে মানুষের, জেনেনিন কিভাবে?

রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট বা ক্যারেক্টার সার্টিফিকেটের জন্য আর রোদে পুড়ে পঞ্চায়েত অফিসে ছোটার দিন শেষ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দাদের জন্য সুখবর, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই জেলার সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে চালু হয়ে গেল অনলাইনে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শংসাপত্রের জন্য আবেদনের সুবিধা। এখন স্মার্টফোন থেকেই করা যাবে আবেদন এবং বাড়িতেই চলে আসবে সেই শংসাপত্র, তাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
এতদিন পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের শংসাপত্র ছাড়া বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে থাকত। অভিযোগ ছিল, এই শংসাপত্র পেতে সাধারণ মানুষকে বিস্তর হয়রানির শিকার হতে হতো। ৮-১০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েও প্রধান বা অন্যান্য আধিকারিকদের অনুপস্থিতির কারণে কাজ না হওয়ার ঘটনা ছিল নৈমিত্তিক। এমনকি, শংসাপত্র বের করে দেওয়ার নাম করে টাকা চাওয়ার অভিযোগও উঠত। কর্মসূত্রে যাঁরা রাজ্যের বাইরে থাকতেন, তাঁদের পঞ্চায়েতের শংসাপত্রের প্রয়োজন হলে দূর থেকে ছুটে আসতে হতো। এবার সেই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেলেন সাধারণ মানুষ।
সারা রাজ্য জুড়ে এই পরিষেবা ১ এপ্রিল থেকে চালু হওয়ার কথা থাকলেও, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তা পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক আলি মহম্মদ ওয়ালিওল্লাহ জানান, ‘আমাদের জেলার সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে অনলাইনে শংসাপত্র দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। বাড়িতে বসেই শংসাপত্রের জন্য আবেদন করা যাবে এবং বাড়িতে বসেই তা পাওয়া যাবে।’
কীভাবে করবেন আবেদন?
অনলাইনে শংসাপত্রের জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমে https://wbpms.in পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘সিটিজ়েন’ অপশনে ক্লিক করে নিজের মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এরপর একটি ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) আসবে। ওটিপি দিলেই আবেদনকারী প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে এবং নথি আপলোড করে শংসাপত্রের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনপত্র প্রথমে পৌঁছবে পঞ্চায়েত সচিবের কাছে। তিনি ডিজিটাল স্বাক্ষর করার পর সেটি যাবে পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে। পঞ্চায়েত প্রধানের ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পন্ন হলেই আবেদনকারীর কাছে শংসাপত্র ডাউনলোডের অপশন চলে আসবে।
খড়্গপুর-১ ব্লকের ভেটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব সৌমিত্র রায় এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এতে আমাদের কাজের সুবিধা হবে। আমরা একদিনেই অনেক শংসাপত্র দিতে পারব।’ নারায়ণগড় ব্লকের মকরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রণব বিজলি মনে করেন, এই পরিষেবা অনেকের জন্য সুবিধাজনক হলেও, বয়স্ক বা প্রযুক্তি ব্যবহারে অনভ্যস্ত কিছু মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম দিকে সমস্যা হলে পঞ্চায়েত অফিস এবং বাংলা সহায়তা কেন্দ্র থেকে সাহায্য নেওয়া যাবে।
এই অনলাইন পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে, তেমনই পঞ্চায়েত অফিসের কর্মীদের উপর কাজের চাপও অনেকটা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।