EV-তে লাগা আগুনে বাড়তে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি, জেনেনিন কি বলছে বিজ্ঞানীরা?

ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) ব্যবহার দিন দিন বাড়লেও এতে আগুন লাগার ঘটনা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ইভিতে আগুন লাগলে তা থেকে বিষাক্ত ভারী ধাতু নির্গত হয়, যা ক্যান্সারসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে দমকলকর্মী, গাড়ির মালিক ও আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য এই ঝুঁকি বেশি।
গবেষণার মূল findings
‘ইউনিভার্সিটি অফ মায়ামি’র ‘সিলভেস্টার কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টার’-এর গবেষকরা বলছেন, ইভিতে ব্যবহৃত ব্যাটারিতে প্রচুর পরিমাণে ভারী ধাতু থাকে, যা আগুন লাগলে বিষাক্ত গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থ নির্গত করে। এই পদার্থগুলো ক্যান্সার ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় ইভি ব্যাটারিতে পাওয়া কিছু ভারী ধাতুর তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেগুলো ক্যান্সারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত:
আর্সেনিক: ফুসফুস, মূত্রাশয়, ত্বক, লিভার ও কিডনি ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ক্যাডমিয়াম: ফুসফুস, প্রোস্টেট, কিডনি, অগ্ন্যাশয় ও স্তন ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ক্রোমিয়াম: ফুসফুস, ন্যাজাল ও সাইনাস ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
নিকেল: ফুসফুস, ন্যাজাল ও ল্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সীসা: মস্তিষ্ক, কিডনি, পেট ও ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে জড়িত।
দমকলকর্মীদের উচ্চ ঝুঁকি
গবেষকরা বলছেন, ইভিতে আগুন লাগলে দমকলকর্মীরা সরাসরি এই বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসেন। এর ফলে তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি এবং ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৪ শতাংশ বেশি। ‘সিলভেস্টারের ফায়ারফাইটার ক্যান্সার ইনিশিয়েটিভ’ (এফসিআই)-এর উপ-পরিচালক ড. আলবার্তো কাবান মার্তিনেজ বলেন, “ইভিতে লাগা আগুন দমকলকর্মী ও আশপাশের বাসিন্দাদের ক্ষতিকর ধাতুর সংস্পর্শে আনে, যা ডিএনএ-এর ক্ষতি, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি ও জিনগত পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।”
ইভি আগুনের অন্যান্য ঝুঁকি
গবেষকরা একটি নিয়ন্ত্রিত ইভিতে আগুন লাগানোর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন:
ইভি ব্যাটারির আগুন প্রচলিত গাড়ির আগুনের চেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়।
ইভি ব্যাটারি বিস্ফোরিত হলে তার ধ্বংসাবশেষ ৪০ ফুট পর্যন্ত উপরে উড়তে পারে।
একটি ইভি’র আগুন নেভাতে এক লাখ লিটারের বেশি পানি লাগে, যেখানে প্রচলিত পেট্রলচালিত গাড়ির আগুন নেভাতে লাগে মাত্র আড়াই হাজার লিটার পানি।
পোড়া ইভি’র কাছে মাটিতে ‘পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন’ (পিএএইচএস)-এর মতো বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে, যা পরিবেশ দূষণের মাত্রা বাড়ায়।
সমাধানের উপায়
গবেষকরা ইভি আগুনের ঝুঁকি কমাতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। দমকলকর্মী ও আশপাশের বাসিন্দাদের বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করতে ইভিতে আগুন লাগার পর তা যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এফসিআই-এর পরিচালক ড. এরিন কোবেটজ বলেন, “দমকলকর্মীরা বাস্তব বিশ্বের দক্ষতা নিয়ে কাজ করেন এবং আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট জ্ঞান নিয়ে কাজ করি। আমাদের এই অংশীদারিত্ব জীবন বাঁচাচ্ছে এবং এ কাজ অব্যাহত থাকবে।”
শেষ কথা
ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। গবেষকরা আশা করছেন, এই গবেষণার ফলাফল ইভি নির্মাতা কোম্পানিগুলোকে আরও নিরাপদ প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে এবং দমকলকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।