“স্ক্যান করে পেমেন্ট হল, টাকা এল না”- শেষমেশ গ্রেপ্তার ১৩ সদস্যের সাইবার গ্যাং

হায়দরাবাদ ও সাইবারাবাদে একাধিক ইলেকট্রনিক্স শোরুমে এক চক্রান্তমূলক চুরির ঘটনা ঘটেছে। একটি বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অপারেশনে কয়েক কোটি টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী চুরি হয়েছে।
কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল?
একদল যুবক বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স শোরুমে গিয়ে টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ইত্যাদি কিনত। কিন্তু অর্থ পরিশোধ করার সময় তারা কোনও ধরনের কার্ড ব্যবহার করত না। পরিবর্তে, তারা শোরুমের কিউআর কোডের ছবি তুলে অন্য কোথাও থাকা তাদের সহযোগীদের কাছে পাঠাত। সহযোগীরা সেই কিউআর কোড ব্যবহার করে অনলাইনে পেমেন্ট করে দিত।
কিন্তু ধরা পড়ল কীভাবে?
প্রথমে শোরুম কর্তৃপক্ষ ভেবেছিল টেকনিক্যাল গোলমাল হয়েছে। কিন্তু পরে বুঝতে পারে যে, টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে না। পুলিশ তদন্তে দেখে যে, পেমেন্টের পরে ব্যাঙ্ককে অবৈধভাবে টাকা ফেরত পাঠানো হচ্ছিল।
কীভাবে তারা ধরা পড়েছিল?
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং ব্যাঙ্ক লেনদেনের রেকর্ড খতিয়ে চোরদের সন্ধান পায়। দেখা যায়, এই চক্রের সদস্যরা রাজস্থান থেকে পেমেন্ট করছিল এবং চুরি করা সামগ্রী সেখানেই বিক্রি করছিল। শেষমেশ গ্রেপ্তার করা হয় ১৩ সদস্যের এই সাইবার গ্যাংকে।
কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন?
শোরুম কর্তৃপক্ষ: অনলাইন পেমেন্টের সময় গ্রাহকের পরিচয় যাচাই করুন এবং পেমেন্টের পরে অবশ্যই ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হোন যে টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।
গ্রাহক: অচেনা কিউআর কোড স্ক্যান করবেন না এবং অনলাইনে বড় অঙ্কের টাকা পরিশোধ করার সময় সতর্ক থাকুন।
পুলিশ এই চক্রের আরও সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা সকলকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, অনলাইন জগতে জালিয়াতির বিভিন্ন কৌশল রয়েছে।