ত্বক চকচকে করতে সরাসরি নুন ঘষছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ!

সবাই চান ত্বক পরিষ্কার, নরম আর গ্লোয়িং থাকুক। এর জন্য অনেকেই নানা ঘরোয়া টোটকা ট্রাই করেন। এমনই একটি ট্রেন্ড হলো নুন দিয়ে স্নান করা বা ‘সল্ট বাথ’। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জয়া বচ্চন জানান, সপ্তাহে এক-দু’দিন স্নানের সময় তিনি সাবানের বদলে সরাসরি ত্বকে নুন লাগিয়ে হালকা হাতে ঘষেন। কিন্তু অভিনেত্রীর এই স্কিন কেয়ার রুটিন কি আদৌ সবার জন্য নিরাপদ? চিকিৎসকরা কিন্তু অন্য কথাই বলছেন।

বিখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অঙ্কুর সারিনের মতে, ত্বকে সরাসরি নুন ঘষা একেবারেই উচিত নয়। সাময়িকভাবে ত্বক পরিষ্কার মনে হলেও এর নেপথ্যে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নুনে সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকে এবং সাধারণ নুনের পিএইচ (pH) মাত্রা থাকে ৭-এর কাছাকাছি। অথচ আমাদের সুস্থ ত্বকের নিজস্ব স্বাভাবিক পিএইচ মাত্রা সাধারণত ৪.৫ থেকে ৫.৫-এর মধ্যে হয়। তাই সরাসরি ত্বকে নুন প্রয়োগ করলে সুরক্ষামূলক অ্যাসিড ম্যানটেল নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে ত্বকের আর্দ্রতা হারিয়ে যায় এবং বাইরের ক্ষতিকর উপাদান সহজেই ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

তাছাড়া, নুনের দানা দিয়ে ত্বক জোরে ঘষলে তা ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েশনের কাজ করে, যা সংবেদনশীল ত্বকে প্রদাহ, লালচে ভাব এবং জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করতে পারে। এমনকী এর জেরে হাইপারপিগমেন্টেশন বা ত্বকে কালচে ছোপ পড়ার মতো সমস্যাও বাড়তে পারে। রোমকূপের চারপাশে কালচে ছোপ বা ‘স্ট্রবেরি স্কিন’-এর সমস্যা থাকলে এই ধরনের টোটকা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ত্বকের মৃত কোষ বা ডেড সেল দূর করতে নুনের বদলে নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নুনের পরিবর্তে ল্যাকটিক অ্যাসিডের মতো উপাদানযুক্ত জেন্টল স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ত্বকের ক্ষতি না করে উপরিভাগের মৃত কোষ সরাতে সাহায্য করে। তবে যেকোনো নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়া এবং প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *