চোখ ঝাপসা হওয়া থেকে খসখসে ত্বক! শরীরে ভিটামিন ‘এ’-র মারাত্মক ঘাটতি বুঝবেন কোন ৭টি লক্ষণে?

আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে আমাদের শরীরে অজান্তেই পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব নানা জটিল রোগের জন্ম দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভিটামিন ‘এ’-র ঘাটতি, যা সঠিকভাবে সময়ে না ধরলে চোখের মারাত্মক ক্ষতি থেকে শুরু করে ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা ডেকে আনতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীর যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ পায় না, তখন সে কিছু নির্দিষ্ট সংকেত বা লক্ষণ প্রকাশ করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ৭টি লক্ষণ এবং তা থেকে মুক্তির কার্যকরী উপায়গুলো:
চোখের সমস্যা বা রাতকানা রোগ: ভিটামিন ‘এ’-র অভাবে চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে যায়, যার ফলে কম আলোতে বা রাতে দেখতে সমস্যা হয়। একে সাধারণত রাতকানা রোগ বলা হয়।
ত্বক খসখসে ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া: এই ভিটামিনের অভাবে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, খসখসে হয়ে যাওয়া এবং একজিমা জাতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা ইনফেকশন: শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। এর ফলে ঠান্ডা লাগা বা বিভিন্ন সংক্রমণের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
তৈরি হতে পারে চোখের প্রদাহ: চোখের চারপাশে বা চোখের জল শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা, যেমন জেরোথালমিয়া (Xerophthalmia), এই ভিটামিনের ঘাটতির অন্যতম বড় লক্ষণ।
ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া: শরীরের কোথাও কেটে গেলে বা আঘাত পেলে তা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দেরিতে শুকায়, যা কোলাজেন উৎপাদনে ভিটামিন ‘এ’-র ভূমিকার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।
চুল পড়া এবং মাথার ত্বক শুষ্ক হওয়া: স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং চুল ভেঙে যাওয়ার সমস্যাও এর নেপথ্যে থাকতে পারে।
বয়সের আগেই ক্লান্ত হয়ে পড়া: শরীরের অভ্যন্তরীণ কোষে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং সার্বিক বৃদ্ধিতে এই ভিটামিনের ঘাটতি বড় ধরনের ক্লান্তি ডেকে আনে।
ঘাটতি পূরণের উপায়:
শরীরে ভিটামিন ‘এ’-র ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক, ব্রকোলি, ডিমের কুসুম, কলিজা এবং পাকা আম বা পেঁপের মতো ফল নিয়মিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করা যেতে পারে। নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে আজই সচেতন হন।