উপকারী আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিপদ! অতিরিক্ত উচ্ছে খেলে শরীরের যে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে

পাতে একটু তেতো না থাকলে বাঙালির দুপুরের খাওয়া যেন ঠিক জমে না। বিশেষ করে গরমের দিনে রক্ত পরিষ্কার রাখা থেকে শুরু করে হজমশক্তি বাড়াতে উচ্ছে বা করলার জুড়ি মেলা ভার। ডায়াবেটিস রোগীদের কাছে তো এটি মহৌষধের সমান। কিন্তু সব ভালো জিনিসেরই যেমন একটি নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে, তেমনই অতিরিক্ত উচ্ছে খাওয়ার অভ্যাস উপকারের বদলে শরীরে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকার আশায় মাত্রাতিরিক্ত উচ্ছে বা তার রস পান করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ডেইলি হান্টের পাঠকদের জন্য রইল অতিরিক্ত উচ্ছে খাওয়ার নেতিবাচক দিকগুলোর বিস্তারিত বিবরণ।
১. রক্তে শর্করা হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উচ্ছে দারুণ কার্যকরী হলেও, অতিরিক্ত উচ্ছে খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia) বলা হয়। এর ফলে মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভব হতে পারে।
২. গর্ভপাতের ঝুঁকি ও গর্ভকালীন জটিলতা
গর্ভবতী নারীদের জন্য অতিরিক্ত উচ্ছে খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। উচ্ছের মধ্যে থাকা কিছু উপাদান জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে, যার ফলে অকালেই গর্ভপাত বা নানা জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা তাই গর্ভকালে এই সবজিটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।
৩. পেটের গোলযোগ ও হজমের সমস্যা
উচ্ছের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ঔষধি গুণ থাকলেও, অতিরিক্ত পরিমাণে এটি গ্রহণ করলে পরিপাকতন্ত্রে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে পেট ব্যথা, পেটে গ্যাস জমা, বমি ভাব কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪. লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ
অতিরিক্ত মাত্রায় উচ্ছে বা এর বীজ খেলে তাতে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান লিভারের কোষে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করে, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর।
যেকোনো খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। তাই তেতো প্রিয় হলেও অতিরিক্ত উচ্ছে খাওয়ার অভ্যাস আজই বদলান এবং সুস্থ থাকুন।