তেলাপোকা দেখলে ভয়ে চিৎকার, অথচ বিড়াল দেখলেই ফিদা নারীরা! এর পেছনে রয়েছে কোন মনস্তাত্ত্বিক রহস্য?

ঘরে একটি তেলাপোকা উড়ে এলেই আতঙ্কে ঘরের এমাথা থেকে ওমাথা দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন বহু নারী। অথচ সেই একই নারীরা যখন কোনো মিষ্টি বিড়াল বা বিড়ালের ছানাকে দেখেন, তখন তাদের চোখেমুখে স্নেহের জোয়ার বয়ে যায়। বিড়ালকে কোলে তুলে নেওয়া বা আদর করার ক্ষেত্রে তাঁদের জুড়ি মেলা ভার। তেলাপোকা দেখলে ভয়ের চোটে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, আর বিড়াল দেখলে মন গলে জল—নারীদের এই অদ্ভুত আচরণের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে দারুণ কিছু মনস্তাত্ত্বিক এবং জৈবিক কারণ।

বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের এই পছন্দ-অপছন্দের পেছনে কাজ করে সুপ্রাচীন বিবর্তন এবং আমাদের মস্তিষ্ক ও আবেগের গঠন:

ভয় ও আত্মরক্ষার তাগিদ (Phobia & Survival Instinct): তেলাপোকার মতো পোকা-মাকড়গুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে দ্রুত নড়াচড়া করে এবং এগুলোর শরীর থেকে অস্বাস্থ্যকর গন্ধ বা ময়লা ছড়াতে পারে। বিবর্তনের পর্যায় থেকেই আমাদের মস্তিষ্ক ক্ষতিকর বা অস্বাস্থ্যকর কীটপতঙ্গকে ‘বিপদ’ বা ‘সংক্রমণের উৎস’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই তেলাপোকা দেখলে অবচেতনভাবেই বাঁচার তাগিদে ভয় বা বিতৃষ্ণা (Disgust) কাজ করে।

মাদারলি ইনস্টিন্ট বা মাতৃত্বসুলভ আবেগ (Maternal Instinct): অন্যদিকে, বিড়ালের কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মানুষের মনকে সহজে নরম করে দেয়। বিড়ালের বড় বড় চোখ, ছোট নাক এবং তুলতুলে নরম শরীর মানুষের মস্তিষ্কে এক ধরনের ‘কিউটনেস রেসপন্স’ তৈরি করে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে থাকা সহজাত মাতৃত্বসুলভ প্রবৃত্তি বা কেয়ারিং ন্যাচার এই সুন্দর ও অবলা প্রাণীদের প্রতি সহজে আকর্ষণ বোধ করায়।

যোগাযোগ ও স্পর্শের আরাম (Tactile Comfort): তেলাপোকার স্পর্শ গা ঘিনঘিন করলেও, বিড়ালের নরম পশম বা লোমে হাত বুলোলে বা বিড়ালের মিহি মিউ মিউ শব্দ শুনলে মানুষের মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা দ্রুত কমে যায়। এটি শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ (Oxytocin) নামক হরমোন বা ‘লাভ হরমোন’ নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়, যা মনকে শান্ত ও আনন্দিত রাখে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, তেলাপোকার অপ্রত্যাশিত ও অস্বাস্থ্যকর গতিবিধি যেখানে ভয়ের উদ্রেক করে, সেখানে বিড়ালের শান্ত, সুন্দর ও আদরনীয় স্বভাব নারীদের মন জয় করে নেয় অনায়াসেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *