হার্ট অ্যাটাক মানেই কি বুকে তীব্র ব্যথা? এই ৫টি ভুল ধারণা আপনার জীবন কেড়ে নিতে পারে!

আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি যে হার্ট অ্যাটাক মানেই বুকে তীব্র ব্যথা আর মাটিতে লুটিয়ে পড়া। কিন্তু সত্যিটা হলো, বহু হার্ট অ্যাটাক একদম চুপচাপ আসে এবং কোনো বড় সতর্কবার্তা দেয় না। চিকিৎসকরা একে বলেন “সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক” (Silent Heart Attack)। আর সবচেয়ে ভয়ের কথা হলো, মহিলা এবং ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এই নীরব আক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

বুকে ব্যথা নেই মানেই আপনি নিরাপদ নন। শরীর কিন্তু নানা ইশারায় বিপদের কথা জানান দেয়। সময় থাকতে এই ৫টি লক্ষণ চিনে রাখা অত্যন্ত জরুরি:

১. চরম ক্লান্তি, যার কোনো যুক্তি নেই

আগে যে কাজ অনায়াসে করতেন, এখন অল্পতেই দম ফুরিয়ে যাচ্ছে? রাতে পর্যাপ্ত ঘুমালেও সকালে মনে হচ্ছে যেন শরীর একেবারে ভেঙে আসছে? এটি কেবল কাজের চাপ নয়। হার্ট যখন ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখন পেশি ও মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না, যার ফলে এমন অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়। একে বার্ধক্য বা সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাবেন না।

২. শ্বাসকষ্টের সঙ্গে ঠান্ডা ও চিটচিটে ঘাম

কোনো ভারী পরিশ্রম ছাড়াই হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে আসা, রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে নিঃশ্বাসে কষ্ট হওয়া কিংবা কপালে ও ঘাড়ে ঠান্ডা ঘাম ঝরার মতো সমস্যা দেখা দিলে সাবধান হন। হার্টের পাম্পিং দুর্বল হয়ে পড়লে ফুসফুসে তরল জমে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম নির্গত হয়।

৩. বুকে নয়, ব্যথা ছড়াচ্ছে অন্য জায়গায়

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘রিফার্ড পেন’ (Referred Pain)। বুক পুরোপুরি ঠিক থাকলেও নিচের চোয়ালে কামড়ানোর মতো ব্যথা, গলা টিপে ধরার অনুভূতি, পিঠের মাঝখানে বা দুই কাঁধের মাঝে ভারী পাথর চাপানোর মতো অস্বস্তি কিংবা বাঁ হাত ঝিনঝিন করা—এগুলি সবই সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। অনেকেই এটিকে গ্যাস, সার্ভিক্যাল বা পেশির ব্যথা ভেবে ভুল করেন।

৪. পেটের গণ্ডগোল, বমি ভাব এবং বুক জ্বলা

হালকা খাবার খাওয়ার পরেও পেট ফেটে যাওয়া, ঘন ঘন ঢেঁকুর ওঠা, বমি ভাব বা বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়া করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে এই সমস্যাগুলি বেশি দেখা যায়। একে সাধারণ ‘ফুড পয়জনিং’ বা অ্যাসিডিটি ভেবে ঘরোয়া টোটকায় সময় নষ্ট করা মারাত্মক ভুল হতে পারে।

৫. হঠাৎ মাথা ঘোরা এবং ভারসাম্য হারানো

দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ চারপাশ ঘুরে যাওয়া, চোখে অন্ধকার দেখা বা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ার মতো অনুভূতি হলে সতর্ক হোন। মস্তিষ্ক বা ব্রেনে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এমনটা ঘটে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

কখন হাসপাতালে যাবেন?

ওপরের লক্ষণগুলির মধ্যে দুটি বা তার বেশি লক্ষণ একসঙ্গে ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে এক মুহূর্তও দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যান বা অ্যাম্বুল্যান্সের সাহায্য নিন। মনে রাখবেন, এখানে ‘দেরি’ করাই আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু। একটি সাধারণ ইসিজি (ECG) মুহূর্তের মধ্যে আপনার হার্টের আসল অবস্থা বলে দিতে পারে।

৪০ বছর বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর প্রতি বছর অন্তত একবার প্রেসার, সুগার, কোলেস্টেরল এবং ইসিজি করানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। হার্ট সবসময় চিৎকার করে বিপদ জানায় না, অনেক সময় সে ফিসফিস করে ইশারা দেয়—সেই সংকেত সময়মতো বুঝতে পারাটাই জীবন বাঁচানোর চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *