বেকড ও গ্রিলড খাবার কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? বড় ভুল করছেন! বড় বিপদের হাতছানি নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বাঙালি তথা ভারতীয় পরিবারে ভাজাভুজির চল বহুদিনের। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে এখন দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বেকড এবং গ্রিলড খাবারের ট্রেন্ড। অনেক মানুষেরই এমন ভুল ধারণা রয়েছে যে, তেলে ভাজা খাবারের চেয়ে বেক করা বা গ্রিল করা খাবার শরীরের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁদের পরিষ্কার মত, ভাজার পাশাপাশি যেভাবে বেকড ও গ্রিলড খাবারের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে, তাতে আগামী দিনে দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগ।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ও শিশুদের ঝুঁকি
বর্তমানে ভারতে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে ১০ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভীতিজনক তথ্য হলো, দেশের ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও এখন এই রোগের প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত অ্যালার্মিং।
চেন্নাইয়ের বিশিষ্ট ডায়াবেটিস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক ভি মোহনের মতে, আধুনিক প্রজন্মের এই ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার পেছনে মূলত দায়ী তাদের খাদ্যাভ্যাস। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভাজাভুজি, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বিস্কুট, বেকারির নানা আইটেম, বেকন, মাখন, মার্জারিন, মিষ্টি জাতীয় খাবার এবং রেড মিট বা লাল মাংস এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত এসব খাবার শরীরে প্রবেশ করানোর অর্থ হলো শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট জমতে দেওয়া, যা অচিরেই বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয় ডেকে আনে।
কোন খাবারগুলি খাওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর উপাদান রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্রকোলি, ওটস, টাটকা ফলমূল, সবুজ শাকসবজি, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার এবং মাছের মতো পুষ্টিকর ও সুষম খাবার। শরীরকে সুস্থ রাখতে ফাস্টফুড ও বেকড আইটেমের মোহ ত্যাগ করে ঘরোয়া ও পুষ্টিকর খাবারের ওপর জোর দেওয়ার সময় এখনই।