সঙ্গীর পাশে ঘুমালে সুস্থ থাকে শরীর! এমনটাই দাবি গবেষকদের

দিনের শেষে পরিপূর্ণ ঘুম আরেকটি দিন সুন্দরভাবে শুরু করার রসদ জোগায়। ঘুমের সময় সঙ্গী পাশে থাকলে ঘুম ভালো হয়, সৃষ্টি হয় মিষ্টি কিছু স্মৃতিরও। মশারি টাঙানো নিয়ে ছোটখাটো ঝগড়া, একজনের নাকডাকা নিয়ে অপরজনের অভিযোগ, বিছানার বেশিরভাগ দখল নিয়ে কাড়াকাড়ি, এগুলোই এক সময় অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে গবেষণাও বলছে ইতিবাচক খবর। সঙ্গীর পাশে ঘুমালে সুস্থ থাকে শরীর ও মন, এমনটাই জানাচ্ছে গবেষণা।

‘অক্সফোর্ড অ্যাকাডেমিক স্লিপ’-এ প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় জানা গেছে, একা ঘুমানোর বদলে প্রিয় মানুষের পাশে ঘুমালে বিষণ্নতা দূর হয়, কেটে যায় মানসিক উদ্বেগ। এই অভ্যাসের কারণে ঘুম দ্রুত আসে। ভালো ও দীর্ঘ ঘুমের জন্য এই অভ্যাস উপযোগী। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মনের মানুষের পাশে ঘুমান, তাদের ক্লান্তিভাব কেটে গিয়েছে এবং ঘুম তুলনামূলক বেশি ভালো হয়।

গবেষকদের দাবি, ভালোবাসার মানুষের পাশে ঘুমোনোর অভ্যাস ঘুমের গুণমানকে উন্নত করে। সেইসঙ্গে ঘুমের সময় শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি এবং অনিদ্রাও কমিয়ে দেয় অনেকাংশে। বায়োহ্যাকার এবং মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ টিম বলেন, ‌‘কেউ যখন সঙ্গীর সঙ্গে ঘুমান তখন তার শরীর থেকে একাধিক রাসায়নিকের নিঃসরণের প্রক্রিয়া বেড়ে যায়। আর এসব রাসায়নিক রাতের গভীর নিদ্রায় সহায়ক।’ তার মতে, রাসায়নিকগুলো মূলত এক ধরনের হরমোন, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে অক্সিটোসিন বা ভালোবাসার হরমোন এবং সেরোটোনিন বা ভালোলাগার হরমোন। এই গবেষণায় বলা হয়, উচ্চ মাত্রায় অক্সিটোসিন নিঃসরণ হলে কমে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও।

গবেষণা থেকে স্পষ্টই বোঝা যায়, সঙ্গীর মধ্যে ঘুমের সময় বিরক্তিকর অভ্যাস না থাকলে অপরজনের শরীর খুব দ্রুতই সুস্থতা অনুভব করবে। এদিকে সায়েন্স অ্যালার্টের এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ঘুমের সময় সঙ্গীর বিভিন্ন বিরক্তিকর অভ্যাস থাকলেও, তা দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার কারণে অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। ঘনিষ্ঠ এবং পরিচিত কারো পাশে ঘুমানোর কারণে আমাদের ভেতরে এক ধরনের নিরাপত্তা বোধ ও ইতিবাচক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এটি ঘুমকে আরও গাঢ় করে।

নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটির মেন্টাল হেলথ বিভাগের গবেষক হেনিং জোহানেস ড্রিউজ বলেন, ‘কারো সঙ্গী যদি তাকে ঘুমাতে বাধা দেয় বা ঘুমে ব্যাঘ্যাত ঘটায় তবে সে হয়তো একাই ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এ ধরনের ক্ষেত্রে একা ঘুমানোই বেশি উপকারী।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *