বিকাল হলেই মনটা চাউমিন-এগরোল করে উঠছে! তাহলে এটি আপনার জন্যই লেখা

সূর্য ডুব দিলেই মনে হয় একটু ফুড অ্যাপ অন করি। সন্ধ্যেবেলা চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় মনে হয় ফিশফ্রাই, চিলি চিকেন কিনে নিয়ে যাই। প্রেমিকার সঙ্গে আজ সন্ধ্যেবেলা দেখা করার প্ল্যান করে রয়েছে। স্থানটা মোমোর দোকান হলে মন্দ হবে না। ব্যাগ বোঝাই করে অফিসে টিফিন নিয়ে গেছি। কিন্তু অফিসের সামনের দোকানের বিরিয়ানির স্বাদ অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। যদি রাগ, মন খারাপ হয়, দুঃখ ভোলাতে ফুড অ্যাপ তো রয়েছেই ইমোশনাল বা স্ট্রেস ইটিংকে (Stress Eating) সাপোর্ট দেওয়ার জন্য। আর এই করেই জাঙ্ক ফুডের থেকে পিছু ছাড়ানো হচ্ছে না। দু’ দিন ছাড়া পেটের সমস্যা দেখা দিচ্ছে নাহলে বেড়ে যাচ্ছে ওজন (Weight Loss)। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে সকালে মনে করছেন আজকে কোনও খাবার অর্ডার করব না, কিনে খাবার খাবো না, টাকা জমাবো। কিন্তু দিন শেষ হতে হতে সেটাও যে আর হচ্ছে না। তাহলে উপায় কী?
গবেষণা বলছে, জাঙ্ক ফুডের থেকে পিছু ছাড়ানোর সহজ ও একমাত্র উপয়া হল ব্যায়াম। ক্যালোরি থেকে জমানোর সম্পূর্ণ উল্টো পথ। আপনাকে ক্যালোরি বার্ন করতে হবে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন স্টেস্ট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় উঠেছে এসেছে এই তথ্য। ইঁদুরের ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে সব ইঁদুর শরীরচর্চা করেনি তাদের মধ্যে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। ৩০ দিনের ওই গবেষণায় ইঁদুরগুলিকে ট্রেডমিলের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। যারা ট্রেডমিলের ওপর ছুটে ছিল তাদের মধ্যে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা অনেক কমে গিয়েছে।
২০১৬ সালে সুইডেনের উপসালা ইউনিভার্সিটিতেও একটি গবেষণা করা হয়। ওই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা ঘুমের সঙ্গে জড়িত। যদি রাতে ভাল ঘুম না হয়, সেক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে এন্ডোক্যানাবাইনোডিস নামক মস্তিষ্কনিঃসৃত রসের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এখান থেকেই জাঙ্ক ফুডের প্রতি ঝোঁক বেড়ে যায়। সুতরাং দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম খুব জরুরি।
নিয়মিত শরীরচর্চা করলে এবং রাতে ভাল ঘুম হবে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। এর পাশাপাশি এই দুটি জিনিস হজমে সাহায্য করবে, মানসিক চাপ কমাতে এবং আপনাকে রোগমুক্ত রাখবে। তাহলে কবে শুরু করছেন এই ভাল অভ্যাস?