ট্রাভেল ভ্লগে হাজারদুয়ারিকে বারাবার ‘হাজারিবাগ’ বলে নেটিজেনদের কটাক্ষের শিকার সুদীপা

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় ভ্লগারদের তালিকায় এখন নাম উঠে এসেছে সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের। একসময় ‘রান্নাঘর’ শো-র মাধ্যমে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া সুদীপা বর্তমানে নিজের ইউটিউব চ্যানেল এবং ব্যবসার মাধ্যমে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তবে সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ নিয়ে করা একটি ভ্লগ ঘিরে নেটদুনিয়ায় উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

সুদীপা তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে ছেলের সঙ্গে ট্রেনে যাত্রা, বিলাসবহুল রিসর্টে থাকা এবং ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন তিনি ‘হাজারদুয়ারি’ প্রাসাদকে বারবার ‘হাজারিবাগ’ বলে উল্লেখ করেন। ভয়েসওভারে তাঁকে বলতে শোনা যায়—
“পৌঁছে গেলাম হাজারিবাগ… মুর্শিদাবাদ ছিল বাংলার প্রথম ফর্মাল ক্যাপিটাল… হাজারিবাগের ১০০০টা দরজার মধ্যে মাত্র ১০০টা আসল।”

সেই মুহূর্তেই অনেকে মন্তব্য করে ভুল ধরিয়ে দেন। একজন নেটিজেন প্রশ্ন করেন, “হাজারিবাগ নাকি হাজারদুয়ারি?”— উত্তরে সুদীপা হেসে জবাব দেন, “ওএমজি 😂😂😂… হাজারদুয়ারি… ক্ষমা করবেন।”

যদিও নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব এবং শিক্ষিত মানুষ হিসেবে এমন ঐতিহাসিক ভুল হালকাভাবে নেওয়া উচিত হয়নি। এক মহিলা কমেন্টে লেখেন, “আপনার কাছ থেকে এটা একেবারেই আশা করিনি। আপনি আমার ভীষণ প্রিয়, তাই ভুলটা ধরিয়ে দিলাম।”

অথচ এখনও পর্যন্ত ভিডিওর ক্যাপশন বা কনটেন্টে ভুল সংশোধন করা হয়নি, যা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

রান্নাঘরের উপস্থাপনা ছাড়াও বর্তমানে সুদীপা ইউটিউবে নিজস্ব কুকিং শো চালান, চালান রেস্তোরাঁ ও বুটিক ব্যবসা। শাড়ি, গয়না, ফ্যাশন নিয়ে তাঁর নিজস্ব ব্র্যান্ড যথেষ্ট সফল। মাসে লক্ষাধিক রোজগার করেন বলেও সূত্রের খবর।

সুদীপার এই ভুল নিছক মুখ ফস্কে বলা বলেই মানতে নারাজ অনেকে। কারণ, এটি একটি রেকর্ড করা ভিডিও, যেখানে বারংবার সংশোধনের সুযোগ ছিল। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে বিখ্যাত ব্যক্তিদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত, এমনই মত নেটিজেনদের একাংশের।

অবশ্য সুদীপা হেসে ভুল স্বীকার করলেও, তাঁর জনপ্রিয়তায় এর প্রভাব কতটা পড়বে তা সময়ই বলবে। তবে নেটপাড়ার মত স্পষ্ট— ‘হাজারিবাগ’ নয়, মুর্শিদাবাদের গর্ব ‘হাজারদুয়ারি’।