সাবধান! জেনেনিন ফ্যাটি লিভার হওয়ার ৫ কারণ, আজই সতর্ক থাকুন

ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বিশ্বজুড়েই। অনিয়মিত জীবনধারণ এই ব্যাধির মূল কারণ। ফ্যাটি লিভারের কারণে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে। ফলে লিভার তার কাজ সঠিকভাবে করতে পারে না।

প্রাথমিক অবস্থায় এই ব্যাধি শনাক্ত করে চিকিৎসা করা না হলে পরবর্তী সময়ে তা জটিল অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। এর থেকে হেপাটাইটিস, ফাইব্রোসিস ও শেষে সিরোসিস হওয়া সম্ভব।

এ বিষয় ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালের কনসালটেন্ট ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন ডা. চন্দ্রাশিস চক্রবর্তী জানান, ফ্যাটি লিভার অসুখটির দুটি ভাগ রয়েছে- অ্যালকোহোলিক ও নন অ্যালকোহোলিক।

যারা অতিরিক্ত মদ্যপান করেন তাদের ক্ষেত্রে দেখা দেয় অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। অন্যদিকে স্থূলতা নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের কারণ। এই বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন ঠিক কী কী কারণে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে-

মদ্যপান
ডা. চন্দ্রাশিস চক্রবর্তীর মতে, মদ্যপান হলো ফ্যাটি লিভার ডিজিজের অন্যতম কারণ। বিশ্বের বহু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। আসলে মদ সরাসরি লিভারের ক্ষতি করে।

অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট

ডা. চন্দ্রাশিস চক্রবর্তীর মতে, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের প্রতি সবারই লোভ বেশি। তবে এর একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। দৈনিক অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট খেলে এক সময় তা লিভারে চর্বি জমায়।

বিশেষ করে যাঁর শারীরিক পরিশ্রম করেন না তারা ভাত, রুটি, আলুর মতো উচ্চ কার্বযুক্ত খাবার খাওয়া কমান। দেখা গেছে, এই খাবার থেকেই বেশিরভাগ সময় ফ্যাটি লিভার হয়।

ডায়াবেটিস
টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী এখন প্রায় ঘরে ঘরেই। দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও বেশি। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই রক্তে শর্করার পরিমাণ যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

উচ্চ কোলেস্টেরল

ডা. চন্দ্রাশিস চক্রবর্তীর মতে, শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়। যেমন- ট্রাইগ্লিসারাইডস বাড়লে লিভারে ফ্যাট জমতে পারে।

আর সেই ফ্যাট শরীরের জন্য খুবই খারাপ। তাই চেষ্টা করুন শরীরে লিপিড নিয়ন্ত্রণে রাখার। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এমনকি ওষুধ খান। তবেই রোগ থেকে মুক্তি পাবেন।

অলস জীবন ও স্থূলতা

স্থূলতা ও অলস জীবনযাপন এই ব্যাধির মূল কারণ। এজন্য নিয়মিত ব্যায়াম করুন। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করা উচিত সবারই।

ফ্যাটি লিভারের অত্যাধুনিক চিকিৎসা আছে। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ও ডায়েটে বদল আনলে ফ্যাট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *