সাবধান! হাত-পা অবশ ও ফুলে যাওয়া গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয় তো? জেনেনিন বিস্তারিত

হাত-পায়ে অসাড়তা কিংবা অবশভাব যে কোনো কারণেই হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ পা একই ভঙ্গিতে রাখার কারণে অবশভাব দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে পা ফুলে যাওয়ার কারণ কিন্তু বেশ মারাত্মক হতে পারে।

কোনো আঘাত ছাড়াই যদি দেখেন পা ফুলতে শুরু করেছে, তাহলে কিন্তু সতর্ক হতে হবে। জানলে অবাক হবেন, হাত-পায়ে অবশভাব কিংবা ফুলে যাওয়ার সমস্যা কিন্ত হতে পারে উচ্চ কোলেস্টেরলের লক্ষণ।

শরীরের সুস্থ কোষ তৈরির জন্য কোলেস্টেরল প্রয়োজন। ভালো (এইচডিএল) ও খারাপ (এলডিএল) এ দু’ধরনের কোলেস্টেরল শরীরে থাকে।

তবে যদি শরীরে উচ্চ মাত্রার লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল, যা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল নামেও পরিচিত, সেটি হৃদরোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়ায়।

মোমজাতীয় কোলেস্টেরল ধমনীর দেওয়ালে ও তার উপরে জমা হতে পারে। ফলে ধমনীর পথ বন্ধ হয়ে যায় ও রক্ত প্রবাহকে কঠিন করে তোলে।

কখনো কখনো রক্ত প্রবাহিত না হওয়ার কারণে অত্যধিক চাপে ধমনী ছিঁড়ে যায়, ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঘটনা ঘটে।

উচ্চ কোলেস্টেরলের সঙ্গে পায়ের সমস্যার সম্পর্ক কোথায়?

রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে তার থেকে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ হতে পারে। এক্ষেত্রে প্লাক তৈরি হয় ও ধমনী সরু হয়ে যায়। এতে পা ও পায়ের পাতাসহ শরীরের নিচের অংশে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে।

পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত ব্যক্তির পা বা বাহুতে (সাধারণত পা) পর্যাপ্ত রক্ত পায় না, হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা হয়। এটি ‘ক্লাডিকেশন’ নামেও পরিচিত।

যদি সময়মতো এর চিকিৎসা না করা হয়, এই অবস্থা গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- গুরুতর অঙ্গ ইস্কেমিয়া ও তীব্র অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ইসকেমিয়া, যা পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ (পিএডি) এর একটি উন্নত রূপ। এক্ষেত্রে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হতে পারে।

কেন পায়ে অসাড়তা ও হাত-পা ফুলে যাওয়া

পিএডি পায়ের রক্ত প্রবাহকে কমিয়ে দেয়। এ কারণে একজনের পা ও পায়ের রঙে পরিবর্তন ঘটতে পারে। যদি এর চিকিত্সা না করা হয়, তাহলে পা ফ্যাকাশে বা নীল হতে পারে।

এর সঙ্গে পায়ে যন্ত্রণা ও ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে হাঁটার সময় এই ব্যথা আরও বাড়ে। যদিও কয়েক মিনিটের বিশ্রামে এই ব্যথা কমতে পারে।

মায়ো ক্লিনিকের মতে, শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে নীচের অংশ, পা বা পায়ে শীতলতা, অসাড়তা ও দুর্বলতার লক্ষণ কিন্তু উচ্চ কোলেস্টেরলের ইঙ্গিত দেয়। এই লক্ষণ দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ও জীবনধারণে পরিবর্তন আনুন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *