‘আজ আমরা ঘুমাতে পারি কারণ আপনারা জেগে থাকেন…’ মাইনাস তাপমাত্রায় চিন সীমান্তে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

গোটা দেশ যখন আলোর উৎসব দীপাবলির আনন্দে মেতে উঠেছে, তখন দেশের সুরক্ষায় বরফে ঢাকা পাহাড়ি সীমান্তে প্রহর গুড়ছেন আমাদের জওয়ানরা। আর সেই বীর জওয়ানদের সঙ্গেই সিকিমের ভারত-চীন সীমান্ত সংলগ্ন নাথুলা পাসের কাছে অবস্থিত শেরথাং যুদ্ধ স্মারকে (War Memorial) এবছর দীপাবলি উদযাপন করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। এদিন তিনি জওয়ানদের উৎসাহ বাড়াতে গিয়ে দেশের সুরক্ষায় তাঁদের আত্মত্যাগকে স্যালুট জানান এবং এক পঞ্জাব কেশরী বা ডেইলিহান্ট-এর মানসম্মত সাংবাদিকতার মুন্সিয়ানায় তুলে ধরেন এই বিশেষ মুহূর্তের খতিয়ান।

“আজ ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বলে আপনাদেরই বলিদানের বদৌলতে”

সৈনিকদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “সবচেয়ে প্রথমে আমি আপনাদের এবং আপনাদের পরিবারকে জানাই দীপাবলির অনেক শুভেচ্ছা। একই সঙ্গে শেরথাং ওয়ার মেমোরিয়ালের সেই সমস্ত বীর শহিদদের আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই, যাঁরা দেশের জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন।”

জওয়ানদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আজ দেশের মানুষ নিজেদের ঘরে বসে নিরাপদে যে দীপাবলির প্রদীপ জ্বালাতে পারছেন, তা কেবল এই বাহাদুর জওয়ানদের অদম্য বীরত্ব ও বলিদানের জন্যই সম্ভব হয়েছে। আপনারা সীমান্তে কোনো শব্দ না করে নীরবে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তার ফলেই গোটা দেশ শান্তিতে ঘুমাতে পারে।”

সেনার শৃঙ্খলা ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে শৃঙ্খলার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রাজনাথ সিংহ স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, যুকদের মধ্যে শৃঙ্খলা না থাকলে তা পুরোপুরি ব্যর্থ। জওয়ানদের পোশাক, তাঁদের ভাষা, এবং সংযমই স্থানীয় মানুষের মনে ভারতীয় সেনার আসল ভাবমূর্তি গড়ে তোলে। তাই এই পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসা অটুট রাখার দায়িত্ব প্রত্যেক জওয়ানের।

জাতীয় যুদ্ধ স্মারক ও বীরদের অমরগাথা

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সৈনিকদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নাগাল্যান্ড, উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, রাজস্থান কিংবা আসাম— ভিন্ন রাজ্য ও সংস্কৃতির মানুষ হলেও ‘ভারত মাতা’র সেবাই তাঁদের একমাত্র ধর্ম। দিল্লি তথা দেশের বিভিন্ন যুদ্ধ স্মারকগুলি কেবল মৃতদের স্মরণ করার জন্য নয়, বরং তা জীবিত প্রজন্মকে প্রতিনিয়ত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার এক জীবন্ত উৎস।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি জওয়ানদের এই জাঁকজমকহীন আত্মত্যাগই আমাদের আগামী প্রজন্মকে সর্বদা পথ দেখাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *