আজব কাণ্ড! ফাঁসি/যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত খুনি জেল থেকে সোজা থাইল্যান্ডে ট্যুর, হাজিরা খাতায় সইও হলো নিয়মিত!

রাজস্থানের ওপেন জেলের (Open Jail) সুরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। জয়পুরের বহুল আলোচিত ঝোটওয়ারা হত্যাকাণ্ডে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামি দীক্ষান্ত কামরা নাকি পাঁচ দিনের জন্য থাইল্যান্ড ঘুরে এলো! আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, সে যখন বিদেশে মজা করছিল, তখন জেলের হাজিরা খাতায় নিয়ম করে তার সকাল-সন্ধ্যার সই বা প্রেজেন্ট নথিভুক্ত হচ্ছিল!

বর্তমানে প্রায় ৪০ গ্রাম আফিম উদ্ধারের একটি নতুন মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আবারও শ্রীঘরে পাঠিয়েছে জওহর নগর থানার পুলিশ।

রহস্যের খোলস ছাড়ালো লাওয়ারিশ গাড়ি ও আফিম

পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পুলিশের এক নৈশ টহলকে কেন্দ্র করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP) দীপক শর্মা জানান, জওহর নগর থানা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত/লাওয়ারিশ গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পুলিশ সেটিতে তল্লাশি চালায়। গাড়ি তল্লাশি করার সময় সেখান থেকে প্রায় ৪০ গ্রাম আফিম এবং একটি পাসপোর্ট উদ্ধার হয়।

পাসপোর্টটি ছিল অপরাধী দীক্ষান্ত কামরার নামে এবং যে গাড়ি থেকে সেটি উদ্ধার হয়, সেটি ছিল তার ভাইয়ের। ঘটনায় পুলিশ তৎক্ষণাৎ এফআইআর দায়ের করে সাব-ইনস্পেক্টর নরেশ কুমারকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ দীক্ষান্তকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। উল্লেখ্য, দীক্ষান্ত পূর্বে নৃসিংহপুর ওপেন জেলে নিজের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা কাটছিল।

জেলের সই খাতায় প্রতিদিন ‘উপস্থিত’, অথচ সে থাইল্যান্ডে!

তদন্তে জানা গেছে, অপরাধী দীক্ষান্ত কামরা গত ৯ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ১৩ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত থাইল্যান্ডে অবস্থান করছিল। তার পাসপোর্টে বিদেশে যাতায়াতের স্পষ্ট এন্ট্রি সিলও রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, সে যখন রাজস্থান বা ভারতে অনুপস্থিত থেকে থাইল্যান্ডে ছিল, তখনও ওপেন জেলের রেজিস্টারে তার নিয়মিত হাজিরা পড়ছিল!

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— একজন সাজাপ্রাপ্ত ভয়ংকর অপরাধী কঠোর নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে কীভাবে বিদেশে চলে গেল? জেলের দায়িত্বে থাকা কর্তাদের গাফিলতি নাকি ভেতরের কারও যোগসাজশেই এই কাণ্ড ঘটেছে, তা নিয়ে জোড়াতদন্ত শুরু হয়েছে।

২০১৮ সালের সেই রোমহর্ষক প্রেমিকা ও অপহরণ-কাণ্ড

দীক্ষান্ত কামরা জয়পুরের আলোচিত দুশ্যন্ত হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। ২০১৮ সালে সে তার প্রেমিকা প্রিয়া শেঠের সাথে মিলে ঝোটওয়ারার বাসিন্দা দুশ্যন্তকে অপহরণ করে। দুশ্যন্তকে মুক্তি দেওয়ার বদলে তারা তাঁর বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। বাবার থেকে মুক্তিপণের পুরো টাকা পেয়ে যাওয়ার পরও তারা নৃশংসভাবে দুশ্যন্তকে হত্যা করে। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে পুরো সত্য সামনে এলে আদালত দীক্ষান্তকে যাবজ্জীবন সাজার নির্দেশ দেয়।

পাসপোর্ট এবং বিদেশ যাত্রা ঘিরে একাধিক চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন

এই ঘটনায় বেশ কিছু গুরুতর আইনি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে:
১. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা একজন কয়েদির কাছে তার আসল পাসপোর্ট কীভাবে রয়ে গেল? সেটি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি কেন? (জানা গেছে, পাসপোর্টটি ২০১৬ সালে ইস্যু করা হয়েছিল এবং ২০২৩ সালে তার সাজা হয়)।
২. ওপেন জেলের নিয়ম অনুযায়ী কয়েদিদের নির্দিষ্ট সময়ে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কয়েদি নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রেজিস্টারে হাজিরা নিশ্চিত হচ্ছিল?

বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং এই ঘটনার পেছনে থাকা জেলের ভেতরের কালো হাতদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *