বেতনের টাকা পকেটে নিয়েই চরম বিপত্তি! উৎসবের মুখে রাতের পর রাত রাস্তায় আটকে হাজার হাজার মানুষ

উৎসবের ঠিক মুখেই হাতে এসেছিল কাঙ্ক্ষিত বেতন। আর বেতন পেতেই আনন্দ মনে নিজের ভিটেমাটিতে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছিলেন হাজার হাজার শ্রমিক ও চাকুরিজীবী। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল চরম ভোগান্তিতে। নোয়েডা থেকে শুরু করে গ্রেটার নোয়েডা—যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ের চাপে স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা ট্রাফিক ব্যবস্থা। দাদরি, পরী চক, যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের ‘জিরো পয়েন্ট’ এবং নোয়েডার প্রধান প্রধান বাস স্টপগুলিতে রাতভর চলল চরম যানজট ও বিশৃঙ্খলা। একদিকে সরকারি বাসের ঘোর সংকট, অন্যদিকে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া হাঁকিয়ে দেদার পকেট কাটল বেসরকারি বাস ও গাড়ি চালকেরা।
বেতন হাতে পেতেই বাড়ি ফেরার ঢল, স্তব্ধ বাস স্ট্যান্ড
নোয়েডা ও গ্রেটার নোয়েডার শিল্পাঞ্চলে কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিক ও কর্মচারীরা বেতন পেয়েই উৎসব উদযাপন করতে নিজের গ্রামে বা বাড়িমুখী হওয়ার জন্য রওনা হন। শনিবার সন্ধ্যা হতেই প্রধান প্রধান সড়ক ও বাস ডিপোগুলিতে যেন মানুষের জোয়ার নামে। একটি বাস এসে পৌঁছামাত্রই হুড়মুড়ে তাতে ওঠার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে যে, বাসের ভেতরে তো দূর, দরজায় পর্যন্ত দাঁড়ানোর মতো ন্যূনতম জায়গা ছিল না।
বিশেষ করে সেক্টর-৬২, সেক্টর-৩৭ এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনের মতো ব্যস্ততম বাস স্টেশনগুলিতে গাজীপুর, হাপুর, মিরাট, বুলন্দশহর, পূর্বাঞ্চল এমনকি দূরবর্তী বিহারগামী শত শত মানুষ—যার মধ্যে শিশু, মহিলা ও বৃদ্ধরাও ছিলেন—রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত বাসের অপেক্ষায় ব্যাকুল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
দাদরি থেকে জিরো পয়েন্ট: রোদ-অন্ধকারে স্তব্ধ রাস্তা
গ্রেটার নোয়েডার দাদরি, পরী চক এবং যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের জিরো পয়েন্টে আচমকাই শত শত গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তৈরি হয় কিলোমিটারের পর কিলোমিটার লম্বা যানজট। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যাঁদের বাড়ি পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় বন্দি হয়ে কাটিয়ে দিতে হলো। দূরের জেলাগুলিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হওয়া যাত্রীদের কার্যত পুরো রাতটাই কাটল খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায় যানজটে আটকে।
সরকারি বাসের সংকট, চড়াও হারে ‘পকেট কাটল’ প্রাইভেট চালকেরা
ক্রমবর্ধমান ভিড়ের তুলনায় উত্তরপ্রদেশ রোডওয়েজের (সরকারি) বাস ছিল অত্যন্ত সীমিত, যা আমজনতার কষ্টকে দ্বিগুণ করে তোলে। চরম ক্লান্তি ও দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে যাত্রীরা যখন বেসরকারি বাস, অটো বা ট্যাক্সির শরণাপন্ন হন, তখন চালকেরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেদার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু করে।
প্রতি বছরই উৎসবের এই দিনগুলিতে নোয়েডা ও গ্রেটার নোয়েডা থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক স্বগৃহে ফেরেন। তা সত্ত্বেও রোডওয়েজ কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক পুলিশ কেন সেই অনুপাতে অতিরিক্ত বাস ও যানজট মোকাবিলার সুব্যবস্থা রাখল না, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।