উৎসবের মুখে আপনিও নকল ঘি-পনির খাচ্ছেন না তো? এফএসএসএআই-এর অভিযানে উদ্ধার ৮২ কোটির ভেজাল খাবার!

উৎসবের মরসুমে মিষ্টি, পনির, দুধ এবং ঘি-এর চাহিদা বাজারে তুঙ্গে থাকে। আর এই বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়েই এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে কম গুণমানের ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু এবার এই সব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করল দেশের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ামক সংস্থা FSSAI (ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা এবং মানক কর্তৃপক্ষ)। সম্প্রতি দেশজুড়ে চালানো এক বিশেষ তল্লাশি অভিযানে প্রায় ৩,২৮০ টন নিষিদ্ধ এবং নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করেছে সংস্থাটি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮২ কোটি টাকা!
ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে FSSAI-এর মেগা অ্যাকশন
শুধু ভেজাল খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেই ক্ষান্ত থাকেনি এফএসএসএআই, বরং কড়া আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে:
খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম লঙ্ঘন করায় ৫২টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
১,১৩৩টি লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত (Suspend) করা হয়েছে।
অনিয়মের দায়ে ৩১৪টি খাদ্য প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও খাদ্য ব্যবসায়ীদের ১০,০৪৭টি সংশোধন নোটিশ জারি করা হয়েছে।
উৎসবের মরসুমে কড়া নজরদারি
দীপাবলি এবং পরবর্তী উৎসবগুলোর সময় সাধারণ গ্রাহকরা যাতে প্রতারিত না হন এবং বিষাক্ত খাবার পেটে না যায়, তা নিশ্চিত করতে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে এই অভিযান চালানো হয়। এই সময়সীমার মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৫৬,৪৩১টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে আচমকা পরিদর্শন চালান আধিকারিকরা। বাজেয়াপ্ত করা পণ্যের তালিকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণের ভেজাল মিষ্টি, পনির, খাঁটি ঘি ও দুধ।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে এফএসএসএআই জানিয়েছে, চলতি বছরে গ্রাহকদের কাছে নিরাপদ ও গুণমানসম্মত খাদ্য পৌঁছে দিতে ই-কমার্স সংস্থা এবং সাধারণ খাদ্য ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
FSSAI কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
FSSAI (Food Safety and Standards Authority of India) হলো ভারতে খাদ্যসামগ্রীর নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিতকারী সর্বোচ্চ সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ‘খাদ্য সুরক্ষা ও মানক আইন, ২০০৬’-এর অধীনে গঠিত এই সংস্থাটি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত হয়।
FSSAI-এর মূল দায়িত্বসমূহ:
১. দেশের সমস্ত খাদ্যের নিরাপত্তা ও গুণমানের মাপকাঠি নির্ধারণ করা।
২. খাদ্য ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স প্রদান ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা।
৩. ভেজাল খাদ্য ও মিথ্যা লেবেলিংয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. সময় সময় বাজার থেকে খাবারের স্যাম্পল সংগ্রহ করে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা।
৫. সাধারণ মানুষকে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন করা।
কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত আইন অমান্য করলে, খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের কাছে অভিযুক্তের লাইসেন্স বাতিল, মালামাল বাজেয়াপ্ত করা এবং দোকান সিল করে দেওয়ার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে।