শতবর্ষে পদার্পণ আদবাণীর! দলের প্রাণপুরুষের জন্মদিনে পার্টি কার্যালয়ে বিরাট আয়োজন, স্মৃতিচারণায় আবেগঘন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব

ভারতীয় রাজনীতি ও ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। দেশের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবাণী (Lal Krishna Advani) রবিবার ৯৯তম অতিক্রম করে জীবনের ১০০তম বছরে পদার্পণ করলেন। বিজেপির এই প্রাণপুরুষের বিশেষ জন্মদিন উপলক্ষে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় পার্টি কার্যালয়ে এক বিশাল ও সুসংগঠিত পূজাহবনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পার্টির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও বহু কর্মী উপস্থিত থেকে বর্ষীয়ান এই নেতাকে জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য ও শুভেচ্ছা জানান।

“রাজনীতির সততা ও মর্যাদার সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত আদবাণীজি”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন প্রবীণ এই জননেতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ভারতের রাজনীতিতে যে সততা, মর্যাদা এবং সংবেদনশীলতা থাকা উচিত, আজকের প্রজন্মের কাছে তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলেন লালকৃষ্ণ আদবাণী।” তিনি আরও স্মরণ করান যে, একসময় লোকসভায় বিজেপি মাত্র ২ আসনে নেমে এসেছিল। তৎকালীন চরম হতাশার আবহেও অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আদবাণী যে অদম্য সংকল্প দেখিয়েছিলেন, তার ওপর ভর করেই আজ ভারতের রাজনীতিতে এক সর্বব্যাপী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি। যদিও বাজপেয়ী ও আদবাণীর কাজের ধরণ ও ব্যক্তিত্ব আলাদা ছিল, কিন্তু দলের স্বার্থে ও দেশগঠনে তাঁদের একই সুরে কাজ করার ক্ষমতা ছিল অতুলনীয়।

রাম মন্দির আন্দোলন এবং ঐতিহাসিক রথযাত্রার স্মৃতি

আদবাণীর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘোরানো অধ্যায় ‘রাম জন্মভূমি আন্দোলন’ ও তাঁর ঐতিহাসিক ‘রথযাত্রা’র কথা পরম শ্রদ্ধার সাথে তুলে ধরেন দলীয় সভাপতি। তিনি বলেন, সামস্তিপুরে রথযাত্রা বাধাগ্রস্ত হলেও রামভক্ত ও কারসেবকরা সেই আন্দোলনকে থামতে দেননি। আদবাণীজির শুরু করা সেই দীর্ঘ পথচলাকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ যখন অযোধ্যায় শ্রীরামচন্দ্রের ভব্য মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন শুভ দীপাবলির মরসুমে আদবাণীজির শতবর্ষে পদার্পণের এই দিনটি বিজেপি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন ও ঐতিহাসিক।

১৯৪৭-এর দেশভাগের যন্ত্রণা এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর আবেগঘন বার্তা

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আদবাণীর শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে একটি অত্যন্ত আবেগঘন লেখায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। সামাজিক মাধ্যমে সেই বিশেষ বার্তা শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় মাত্র ২০ বছর বয়সের এক তরুণ হিসেবে সিন্ধুপ্রদেশে নিজের ভিটেমাটি এবং সর্বস্ব হারানোর গভীর যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল আদবাণীকে। কিন্তু সেই যন্ত্রণাকে বুকের ভেতর চেপে রেখে তিনি বিন্দুমাত্র তিক্ততা ছাড়া নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ ও জনসঙ্ঘের হয়ে কাজ করেছেন। দেশভাগের সেই কঠিন অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর মধ্যে ‘রাষ্ট্র প্রথম’ (Nation First) ভাবনার বিকাশ ঘটেছিল।

জরুরি অবস্থার দিনগুলোতে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই থেকে শুরু করে ভারতীয় জনতা পার্টিকে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে লালকৃষ্ণ আদবাণীর দূরদর্শিতা এবং কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আজ ও আগামী দিনে দেশের কোটি কোটি ভারতীয় এবং রাজনৈতিক কর্মীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

Editor001
  • Editor001

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *