এক ধাক্কায় ৮০,০০০ স্পেশাল ট্রেন! দুর্গাপুজো ও ছট পুজোয় যাত্রীদের বড় সারপ্রাইজ দিল মোদী সরকার

দুর্গাপুজো, দীপাবলি ও ছট উৎসবের মরসুমে ট্রেন যাত্রীদের সফর সুগম ও আরামদায়ক করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল। চলতি বছরের বিপুল যাত্রীচাপ এবং ভিড় সামাল দিতে একযোগে ১৮,০০০টি বিশেষ (স্পেশাল) ট্রেন চালানোর ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। শনিবার কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই মেগা পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, দূরপাল্লার যাত্রীরা যাতে স্টেশনে এসে আরামে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন, তার জন্য দেশের প্রায় ২০টি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনে উন্নতমানের ‘ওয়েটিং এরিয়া’ বা অপেক্ষাগার তৈরি করা হয়েছে।

স্টেশন চত্বরে AI নজরদারি ও স্ক্যানিং কাউন্টার যাত্রীদের নিরাপত্তায় এবং স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করতে আনা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। রেলমন্ত্রী জানান:

  • টিকিট কাউন্টার স্থানান্তর: প্ল্যাটফর্ম ও মূল স্টেশন চত্বরে ভিড় এড়াতে টিকিট কাউন্টারগুলি সরাসরি এই নতুন ‘ওয়েটিং এরিয়া’-তে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

  • অতিরিক্ত স্ক্যানিং: যাত্রীদের ব্যাগ ও লাগেজ পরীক্ষার জন্য লম্বা লাইন এড়াতে বসানো হয়েছে একাধিক অতিরিক্ত স্ক্যানিং কাউন্টার।

  • এআই (AI) ক্যামেরায় নজরদারি: স্টেশনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের জন্য প্রায় ৭০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI চালিত বিশেষ ক্যামেরা মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ ট্রেন অশ্বিনী বৈষ্ণব আরও জানান, দিল্লি ও তার আশেপাশের প্রধান রেল হাবগুলি যেমন—শাকুর বস্তি, হজরত নিজামুদ্দিন, আনন্দ বিহার টার্মিনাল এবং নিউ দিল্লি স্টেশনে অতিরিক্ত স্পেশাল ট্রেন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে আচমকা ভিড় বাড়লেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

তিনি উল্লেখ করেন, গত অর্থবর্ষে ভারতীয় রেল রেকর্ড ৭৫,০০০ স্পেশাল ট্রেন চালিয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা অনায়াসে ৮০,০০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থায়ী সমাধানের পথে ভারতীয় রেল শুধু উৎসবের যাত্রীবাহী ট্রেনই নয়, চলতি বছর দেশে পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যাও বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কয়লা ও অন্যান্য জরুরি কাঁচামালের পরিবহন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ট্রেন চলাচলের সুদূরপ্রসারী পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, “বিগত ১০ বছরে দেশে প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার অতিরিক্ত নতুন রেললাইন বসানো হয়েছে। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত অপরিহার্য। নতুন রেললাইন তৈরি করাই যাত্রী সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান এবং রেল সেই লক্ষ্যেই নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *