বাংলায় সাইনবোর্ড থাকতেই হবে! সরকারি প্রকল্প নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি নবান্নের

সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এক বড় ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক কাজের তথ্য বাংলা ভাষাতেই ডিসপ্লে করতে হবে। শুধু তাই নয়, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি এলাকায় বাংলার পাশাপাশি নেপালি ভাষাতেও এই তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত দফতরকে ইতিমধ্যেই এই মর্মে স্পষ্ট নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছে নবান্ন। সরকারের মূল লক্ষ্য, সাধারণ মানুষ যাতে নিজেদের পরিচিত ও মাতৃভাষায় সরকারি কাজ ও প্রকল্প সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন।

কেন এই হঠাৎ নির্দেশ? রাজ্য সরকারের নজরে এসেছিল যে, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজের জায়গায় টাঙানো তথ্যফলক বা হোর্ডিংগুলো মূলত ইংরেজিতেই লেখা থাকত। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং অর্থ কমিশনের অনুদানে হওয়া কাজের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যেত। সরকারের মতে, এর ফলে স্বচ্ছতা, জনজবাবদিহি এবং সামাজিক নিরীক্ষার (Social Audit) আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছিল। সাধারণ মানুষ প্রকল্পের খরচ বা বিবরণ বুঝতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছিলেন। সেই ব্যবস্থার বদল আনতেই এবার এই কঠোর পদক্ষেপ করা হলো।

নতুন নির্দেশিকায় কী কী বলা হয়েছে? নবান্নের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজের জায়গায় থাকা সমস্ত তথ্যফলক, হোর্ডিং এবং সাইনবোর্ডে নিচের বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে:

  • প্রকল্পের নাম ও কাজের বিস্তারিত বিবরণ

  • আনুমানিক খরচ ও অর্থের উৎস

  • কাজ শুরুর ও শেষের সম্ভাব্য তারিখ

  • রূপায়ণকারী বা বাস্তবায়নকারী সংস্থার নাম এবং যোগাযোগের তথ্য

পাহাড়ের জন্য বিশেষ নিয়ম: দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি অঞ্চল অর্থাৎ গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA) এলাকার ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা মেনে নেপালি ভাষায় তথ্য দিতে হবে। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে বাংলা ভাষাও ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় কোনো প্রকল্পের ক্ষেত্রে যদি ইংরেজি বা হিন্দিতে তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে, তবে সেই ভাষাগুলি রাখা যাবে। তবে মূল শর্ত হলো—তথ্যফলকে বাংলা বা নেপালি ভাষাকেই সবসময় সর্বাগ্রে ও সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, চলতি প্রকল্পের কাজের জায়গায় যেখানে এখনও পর্যন্ত কোনো তথ্যফলক নেই, সেখানে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তা আবশ্যিকভঅবে বসাতে হবে। পাশাপাশি, পুরোনো যে সমস্ত তথ্যফলক নতুন নির্দেশিকা মেনে তৈরি হয়নি, সেগুলিও দ্রুত সংশোধন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *