হাতে নিলেই মনে হবে আসল সোনার মুদ্রা! কি এই ‘তিওহার আশরফি’? যার ১টির দাম ১,১১১ টাকা!

দীপাবলি মানেই তো আলোর রোশনাই, উপহারের সমারোহ আর মুখরোচক মিষ্টির উৎসব! এই বিশেষ সময়ে বাজার ছেয়ে যায় হরেক রকমের ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক মিষ্টিতে। তবে এবারের দীপাবলিতে রাজস্থানের জয়পুরে এমন এক মিষ্টি নজর কেড়েছে, যার দাম শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। প্রতি কেজির দাম মাত্র ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা!

খাবারের স্বাদে রাজকীয় ছোঁয়া আর দেখতে অবিকল প্রাচীন স্বর্ণমুদ্রার মতো হওয়ায় এই বিশেষ মিষ্টিটির নাম রাখা হয়েছে ‘তিওহার আশরফি’ (Tyohar Asharfi)। বাইরে থেকে দেখলে একে কোনো আসল সোনার কয়েন বলে ভুল হলেও, এটি সম্পূর্ণ খাওয়ার উপযোগী এবং অত্যন্ত পুষ্টিকর উপাদান দিয়ে তৈরি এক অনন্য সৃষ্টি।

কী কী উপাদানে তৈরি এই লাখ টাকার মিষ্টি?

জয়পুরের একটি প্রখ্যাত মিষ্টির দোকানের প্রতিষ্ঠাতা অঞ্জলি জৈনের অভিনব উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ মিষ্টি। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি ‘তিওহার আশরফি’র ওজন প্রায় ৯ গ্রাম। ১টি মিষ্টির দাম রাখা হয়েছে ১,১১১ টাকা। সেই হিসেবে প্রতি কেজি মিষ্টির দাম গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকায়।

মিষ্টিটি তৈরির উপাদানে রয়েছে চরম রাজকীয়তা:

  • ভিতরের পুর: প্রিমিয়াম মানের কাঠবাদাম ও অন্যান্য শুষ্ক ফলের ঘন মিশ্রণ।

  • বিশেষ উপাদান: এতে মেশানো হয়েছে প্রাচীন ভেষজ নিয়মে তৈরি স্বাস্থ্যকর স্বর্ণভস্ম (খাওয়ার উপযোগী সোনা)।

  • বাইরের আস্তরণ: প্রতিটি মিষ্টির ওপর মুড়ে দেওয়া হয়েছে নিখাদ খাওয়ার উপযোগী সোনার পাত এবং জাফরানের জাফরানি সুবাস ও রঙ।

মিষ্টির পেছনে রয়েছে রাজকীয় ঐতিহ্য

উদ্যোক্তা অঞ্জলি জৈনের মতে, প্রাচীনকালে রাজা-মহারাজারা শুভ উপলক্ষে কাউকে সম্মান জানাতে কিংবা বিশেষ উপহার দিতে সোনা ও রূপোর আশরফি (মুদ্রা) প্রদান করতেন। রাজস্থানের সেই প্রাচীন রাজকীয় ঐতিহ্যকে আধুনিক মিষ্টির রূপ দেওয়ার ভাবনা থেকেই ‘তিওহার আশরফি’র জন্ম।

দীপাবলি উপলক্ষে মিষ্টিটির একটি বিলাসবহুল গিফট বক্স তৈরি করা হয়েছে। এই বিশেষ বাক্সে থাকছে মোট ৯টি আশরফি, যার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯,৯৯৯ টাকা। ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতিতে ১,১১১ এবং ৯,৯৯৯ সংখ্যা দুটিকে অত্যন্ত শুভ ও সমৃদ্ধির প্রতীক বলে মনে করা হয়, আর সেই ভাবনা থেকেই এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুধু আশরফি নয়, রয়েছে ‘তিওহার নবরত্ন’ কাজু কাটলি

এখানেই চমকের শেষ নয়। জয়পুরের এই মিষ্টির দোকানে পাওয়া যাচ্ছে ‘তিওহার নবরত্ন’ নামের আরও এক বিশেষ ধরনের কাজু কাটলি। প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ৯টি রত্নের অনুপ্রেরণায় ৯টি আলাদা স্বাদে ও রঙে তৈরি করা হয়েছে এই কাজু কাটলিগুলি। যার মধ্যে রয়েছে পেস্তা, খাঁটি জাফরান, সুবাসিত গোলাপ, স্ট্রবেরি, পাকা আম এবং আধুনিক ম্যাচা (Matcha)-র মতো জিভে জল আনা স্বাদের বৈচিত্র্য। উৎসবের মরশুমে জয়পুরের এই রাজকীয় মিষ্টি দেখতে ও কিনতে এখন দোকানটিতে ভীতিড় জমাচ্ছেন বিশিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে আমজনতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *