কবে এবং কখন পামুদ্দিনে বসবে লক্ষ্মীপুজো? ২০২৬ সালের দীপাবলির সঠিক সময় ও লগ্ন জানলে চমকে উঠবেন!

হিন্দু সনাতন ধর্মে দীপাবলির উৎসবকে বছরের সবচেয়ে পবিত্র ও আনন্দের রাত বলে মনে করা হয়। চলতি বছরে ৮ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হতে চলেছে মহা দীপাবলি। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে ঘরবাড়ি আলোয় সাজিয়ে মা লক্ষ্মী ও বিঘ্নহর্তা শ্রী গণেশের আরাধনায় মেতে ওঠেন সকলে। শাস্ত্র মতে, এই বিশেষ রাতে সঠিক নিয়ম ও শুভ লগ্নে পুজো করলে ঘরে সুখ, শান্তি এবং ধন-সম্পদের প্রবাহ বজায় থাকে।
যাঁরা এ বছর প্রথমবার বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো করার কথা ভাবছেন বা পুজোর সঠিক পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন, তাঁদের জন্য রইল এই বিশেষ গাইড।
দীপাবলি ২০২৬: লক্ষ্মীপুজো ও শুভ মুহূর্ত
পঞ্জিকা মতে, ৮ নভেম্বর ২০২৬ রবিবার দীপাবলির দিন মা লক্ষ্মী ও ভগবান গণেশের আরাধনার জন্য একাধিক শুভ লগ্ন রয়েছে। নতুন দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সময় অনুযায়ী শুভ মুহূর্তগুলি হলো:
প্রধান শুভ লগ্ন: সন্ধ্যা ৫:৫৪ মিনিট থেকে রাত ৭:৫০ মিনিট পর্যন্ত।
পুজোর মোট সময়কাল: প্রায় ১ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট।
প্রদोष কাল: সন্ধ্যা ৫:৩১ মিনিট থেকে রাত ৮:০৯ মিনিট পর্যন্ত।
বৃষ লগ্ন (স্থির লগ্ন): সন্ধ্যা ৫:৫৪ মিনিট থেকে রাত ৭:৫০ মিনিট পর্যন্ত। এই স্থির লগ্নে লক্ষ্মীপুজো করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
নিশিতা কাল (তান্ত্রিক বা গভীর রাতের পুজো): রাত ১১:৪৯ মিনিট থেকে ১২:৪১ মিনিট পর্যন্ত (৯ নভেম্বর মধ্যরাত)।
লক্ষ্মীপুজোয় কী কী সামগ্রী প্রয়োজন?
পুজো শুরুর আগেই সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে এক জায়গায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকাটি দেখে নিন:
মা লক্ষ্মী, ভগবান গণেশ এবং কুবের দেবতার মূর্তি বা ছবি।
তামা বা পিতলের পবিত্র কলশ ও পর্যাপ্ত গঙ্গাজল।
সুপারি, গোটা কয়টি কয়েন এবং ৫টি আম বা অশোক পাতা।
একটি আস্ত নারকেল এবং লাল কিংবা হলুদ রঙের বস্ত্র।
অক্ষত (অভাঙা চাল), রোমি, চন্দন ও পবিত্র কलावा (মৌলি)।
ধূপকাঠি, প্রদীপ, ঘি, তেল এবং তুলোর বাতি।
লাল বা গোলাপী ফুল (পদ্ম ও গোলাপ ফুল বিশেষ পছন্দের)।
মিষ্টান্ন (কেসরের মিষ্টি বা সুস্বাদু হালুয়া) এবং মরসুমি ফল।
ঘরে বসে লক্ষ্মীপুজো করার সহজ ও সঠিক বিধি
খুব সহজ এবং শাস্ত্রসম্মত উপায়ে ঘরেই মা লক্ষ্মী ও গণেশের পুজো সম্পন্ন করতে পারেন। ধাপে ধাপে জেনে নিন পুজো পদ্ধতি:
১. শুদ্ধিকরণ ও আচন: প্রথমে পুজোর স্থানটি খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পবিত্র করুন। এরপর ডান হাতে সামান্য জল নিয়ে আচন করে নিজেকে পবিত্র করুন।
২. সংকল্প: হাতে কিছু জল, চাল ও ফুল নিয়ে নিজের নাম, স্থান ও পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির কামনা করে মনে মনে পুজো করার সংকল্প নিন।
৩. কলশ স্থাপন: একটি চৌকিতে লাল বা হলুদ কাপড় বিছিয়ে দিন। সেখানে চালের ছোট স্তূপ বা অস্টার দল বানিয়ে তার ওপর জলভর্তি কলশ স্থাপন করুন। কলশের জলে সুপারি, কয়েন ও চাল দিন। তার ওপর আম পাতা সাজিয়ে তার মাঝে নারকেল রাখুন।
৪. দেবতা স্থাপন: চৌকির ওপর গণেশজি, মা লক্ষ্মী এবং কুবের দেবতাকে সসম্মানে বসান। পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী লক্ষ্মী দেবীকে গণেশের ডান বা বাম দিকে স্থাপন করুন।
৫. ষোড়শোপচার পুজো: প্রথমে গণেশজির পুজো করুন। তাঁকে সিঁদুর, অক্ষত, দূর্বা ও ফুল দিয়ে মোদক বা লাড্ডুর ভোগ নিবেদন করুন। এরপর মা লক্ষ্মীর আবাহন করে তাঁকে জল, পঞ্চামৃত, লাল ওড়না, সুগন্ধি ইত্র ও সিঁদুর অর্পণ করুন। দেবীকে পদ্ম ফুল ও মিষ্টির ভোগ দিন।
৬. ব্যবসা ও খাতার পুজো: ব্যবসায়ীরা এই রাতে তাঁদের ব্যবসার নতুন বही-খাতা বা ল্যাপটপ মা লক্ষ্মীর সামনে রেখে তারও পুজো করুন।
৭. দীপ প্রজ্জ্বলন: মায়ের সামনে ঘিয়ে ভরা বড় প্রদীপ এবং একটি সারারাত ধরে জ্বলার মতো অখণ্ড প্রদীপ জ্বালান।
৮. আরতি ও প্রার্থনা: পুজোর শেষে ধূপ-প্রদীপ দেখিয়ে শ্রীসূক্ত বা কनकधारा স্তোত্র পাঠ করুন। এরপর সপরিবারে মা লক্ষ্মী ও গণেশের আরতি করুন এবং অজান্তে হওয়া কোনো ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিন।
জপের জন্য বিশেষ মন্ত্র
পুজোর সময় এই বিশেষ মন্ত্রগুলি উচ্চারণ করলে মা লক্ষ্মী প্রসন্ন হন:
মূল মন্ত্র: ॐ श्रीं महालक्ष्म्यै नमः॥
মহালক্ষ্মী মন্ত্র: ॐ श्रीं ह्रीं श्रीं कमले कमलालये प्रसीद प्रसीद श्रीं ह्रीं श्रीं ॐ महालक्ष्म्यै नमः॥