অভাবকে বুড়ো আঙুল! জম্মু-কাশ্মীরে ঝোড়ো লড়াই চালিয়ে জাতীয় স্তরে পদক জিতল মালদার নবম শ্রেণির ছাত্রী সুস্মিতা!

অভাবকে সঙ্গী করে লড়াই, আর সেই লড়াইয়ের শেষ পরিণতি সোনাঝরা সাফল্য। সমস্ত প্রতিকূলতাকে সপাটে লণ্ডভণ্ড করে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক ছিনিয়ে আনল মালদার এক কৃতি ছাত্রী। জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া ৭০তম ন্যাশনাল স্কুল গেমসের তাইকোন্ডো প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৭ বিভাগে বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে মালদার সুস্মিতা চৌধুরী। তার এই চোখধাঁধানো সাফল্যে এখন উচ্ছ্বসিত গোটা রাজ্য।
জানা গিয়েছে, গত ২২ থেকে ২৬ অক্টোবর শ্রীনগরে বসেছিল ৭০তম ন্যাশনাল স্কুল গেমসের আসর। স্কুল গেমস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার পরিচালনায় আয়োজিত এই মহা রণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাঘা বাঘা প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছিলেন। সেই কঠিন লড়াইয়ের মঞ্চেই অনূর্ধ্ব ১৭ বছর বয়সীদের ৫২ থেকে ৫৫ কেজি বিভাগে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেয় মালদার মেয়ে সুস্মিতা। ইংরেজবাজারের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুস্মিতা চৌধুরী পড়াশোনা করছেন মালদা সি.সি. গার্লস হাইস্কুলের নবম শ্রেণীতে। তাঁর পরিবারে রয়েছে চরম অর্থনৈতিক সংগ্রাম। বাবা মনজিৎ চৌধুরী পেশায় একজন সামান্য অস্থায়ী কর্মী, আর মা আশা চক্রবর্তী গৃহবধূ। কিন্তু চরম আর্থিক অনটনও সুস্মিতার অদম্য জেদকে দমাতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই তাইকোন্ডোর প্রতি তাঁর ছিল প্রচণ্ড ঝোঁক।
নিজের এই বিরাট সাফল্য সম্পর্কে সুস্মিতা জানিয়েছে, রাজ্য স্তরে সেরা হয়েই সে জাতীয় মঞ্চে পা রেখেছিল। আর সেখানে তীব্র লড়াইয়ের পর ব্রোঞ্জ পদক জিতে সে ভীষণ আনন্দিত। তবে এখানেই থেমে থাকতে নারায় সে। তাঁর আগামী দিনের একমাত্র লক্ষ্য আরও কঠোর অনুশীলন করে একদিন এশিয়ান গেমসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। মালদা ডিএসএ প্লেমেট তাইকোন্ডো ক্লাবে নিয়মিত ঘাম ঝরায় এই লড়াকু মেয়ে। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রশিক্ষক ভাস্কর ভৌমিক এবং বাংলার কোচ কাজল রামের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও কঠোর প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষক ভাস্কর ভৌমিক অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন, সুস্মিতার এই মেডেল কেবল মালদা জেলা নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের বুক গর্বে ফুলিয়ে দিয়েছে। অভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে সুস্মিতা আজ প্রমাণ করে দিল যে মনের জোর আর সঠিক পরিশ্রম থাকলে পৃথিবীর কোনো বাধাই মানুষকে আটকাতে পারে না।