১০ বছরের জেলের সাজা থেকে স্বস্তি নেই! ‘তহেলকা’র প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালের আবেদন সরাসরি নাকচ শীর্ষ আদালতের

২০১৩ সালে গোয়ার একটি বিলাসবহুল হোটেলের লিফটে সহকর্মী মহিলা সাংবাদিককে ধর্ষণের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত ‘তহেলকা’ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালকে বড় ধাক্কা দিল সুপ্রিম কোর্ট। নিম্ন আদালতে হওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা স্থগিত করার আর্জি জানিয়ে তিনি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেও, শুক্রবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ‘‘আমরা এই মুহূর্তে কেবল সাজা স্থগিতের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করছি। আপাতদৃষ্টিতে যা তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, তাতে সাজা স্থগিত করার কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’’ ফলে আপাতত জেলের সাজা থেকে কোনো রকম আইনি স্বস্তি পেলেন না প্রাক্তন এই সম্পাদক।

শুনানির সময় তরুণ তেজপালের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল ও সিদ্ধার্থ আগরওয়াল। তাঁরা আদালতে যুক্তি দেন যে, পুরো ঘটনাটি মাত্র ২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের ছিল এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ওই সময়ের মধ্যে দু’বার লিফটের দরজা খুলেছিল। কপিল সিবাল অভিযোগ তোলেন যে, পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সঠিকভাবে খতিয়ে দেখেনি এবং পুরো মামলাটিই কাল্পনিক। একই সঙ্গে তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেন, বিচার প্রক্রিয়ার পুরো সময় জুড়েই তাঁদের মক্কেল জামিনে মুক্ত ছিলেন এবং কখনো সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করেননি।

অন্যদিকে, গোয়া সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই সাজা স্থগিতের তীব্র বিরোধিতা করেন। মেহতা আদালতে ঘটনার রাতে তেজপালের পাঠানো বেশ কিছু হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এবং পরবর্তীতে তাঁর ভূমিকা তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পরেই শীর্ষ আদালত তেজপালের সাজা স্থগিতের আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *