“৭ সদস্যকে খুন করে গাড়ির পেছনে ৪টি বস্তা!”-বাবার ভয়ানক কাণ্ডে শামিল ১৭ বছরের মেয়েও?

বেঙ্গালুরুতে একই পরিবারের সাত সদস্যকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় এবার তদন্তকারীদের হাতে উঠে এল আরও এক বিস্ফোরক ও ভয়াবহ তথ্য। স্ত্রী, শাশুড়ি এবং শ্বশুরবাড়ির অন্যান্যদের শিলনোড়া দিয়ে থেঁতলে খুনের অভিযোগে ধৃত ক্যাব চালক ইন্দুশেখরের অপরাধের জাল কতটা দূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুলিশের জালে জড়িয়ে পড়েছে তার নিজের ১৭ বছরের নাবালিকা মেয়ের নামও!
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের জোরালো সন্দেহ, বাবার এই রোমহর্ষক ও নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ছকে কেবল সঙ্গই দেয়নি ওই তরুণী, বরং পরিবারের বাকি সদস্যদের একে একে বাড়িতে ডেকে আনতেও সাহায্য করেছিল সে। খুনের পর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেহ লোপাটের কাজেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
১৫ দিনের ব্লু-প্রিন্ট: কীভাবে ঘটেছিল এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড?
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ক্যাব চালক ইন্দুশেখর গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে ঠাণ্ডা মাথায় ছক কষে স্ত্রী সুনীতা এবং তাঁর পরিবারের ছ’জন সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
-
কীভাবে খুন করা হয়? শাশুড়ি রূপবতীকে প্রথমে শিলনোড়া দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করার পর, দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে ‘পার্টি’ করার বাহানায় নিজের বাড়িতে ডেকে আনে ইন্দুশেখর। তাঁরা স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পৌঁছতেই একে একে সবাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। উন্মাদনায় বাদ পড়েনি সাত বছরের নিষ্পাপ শিশু পুনীতও!
-
মেয়ের ভূমিকা ও ফোনের বিভ্রান্তি: স্ত্রীকে খুনের পর সন্দেহ এড়াতে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখত অভিযুক্ত। মৃতদের মোবাইল ফোন নিজের কাছে রেখে স্বজনদের পাঠানো মেসেজ ও কলের উত্তর দিত সে। পরিবারটি বেড়াতে গিয়েছে— এমন একটি সাজানো নাটক তৈরি করতে নিজের মেয়েকেও কি ব্যবহার করা হয়েছিল? সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কর্ণাটক পুলিশ।
“গাড়ির বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে!” ১৩ বছরের কিশোরের বয়ানে নতুন মোড়
এই হাড়হিম মামলায় তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অভিযুক্তের শ্যালক শঙ্করের ১৩ বছরের ছেলের বয়ান।
ঘটনার সময় ওই কিশোর ইন্দুশেখরের গাড়িতেই উপস্থিত ছিল। পুলিশের কাছে সে জানিয়েছে, পিসেমশাই ইন্দুশেখর তাকে সঙ্গে নিয়ে গভীর রাতে বিভিন্ন নির্জন জায়গায় গিয়েছিল। সেখানে গাড়ি থেকে চারটি বিশাল বস্তা নামিয়ে ফেলে দিতে দেখেছে সে। বস্তার ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরোলে পিসেমশাইকে প্রশ্ন করেছিল কিশোরটি। অভিযুক্ত ইন্দুশেখর তাকে ঠান্ডা মাথায় জবাব দিয়েছিল, “বস্তায় কোনো জঞ্জাল বা আবর্জনা রয়েছে।”
দেহাংশের খোঁজে শহরজুড়ে জোর তল্লাশি
খুনের প্রমাণ একবারে মুছে ফেলতে দেহগুলি গাড়িতে চাপিয়ে বেঙ্গালুরু শহর থেকে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে চিক্কাবল্লাপুর জেলার একাধিক নির্জন এলাকায় ফেলে আসা হয়েছিল।
ইতোমধ্যেই পর্যটনকেন্দ্র নন্দী হিলসের আশপাশ থেকে ৭ বছরের শিশু পুনীতের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিন্তু খুন হওয়া বাকি সদস্যদের দেহের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। নন্দী হিলস ও আশেপাশের এলাকা জুড়ে ড্রোন এবং ডগ স্কোয়াড নিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ধৃত ক্যাব চালক এবং তার ১৭ বছরের মেয়েকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করছেন ফরেন্সিক ও পুলিশ আধিকারিকেরা।