লাইন প্রাইভেট, অথচ ট্রেন চালায় সরকার! ভারতের একমাত্র এই রেললাইনের অজানা গল্প জানলে চোখ কপালে উঠবে

ভারতের বিশাল রেলওয়ে নেটওয়ার্ক বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের এক বিশাল পরিকাঠামো। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই দেশের বুকেই এমন একটি ঐতিহাসিক রেললাইন রয়েছে, যা স্বাধীনতার এত বছর পরেও রয়ে গেছে একটি বেসরকারি সংস্থার হাতে? আর সেই ট্রেনের চাকা গড়াতে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামলায় স্বয়ং ভারতীয় রেল! শতাব্দীপ্রাচীন এই রেললাইনের নাম ‘শকুন্তলা রেলওয়ে’।
১৯১০ সালে শুরু হয়েছিল পথচলা
শকুন্তলা রেলওয়ের ইতিহাস বেশ পুরনো এবং চমকপ্রদ। এই লাইনের যাত্রা শুরু হয়েছিল সুদূর ১৯১০ সালে। ব্রিটিশ আমলের নামকরা কোম্পানি ‘কিলিক-নিক্সন’ (Killick-Nixon) এই রেললাইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই সময় মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চল ছিল তুলো চাষের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত। মূলত এই অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণে তুলো ট্রেনে করে সোজা ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টারে পাঠানোর উদ্দেশ্যেই সেন্ট্রাল প্রভিন্স রেলওয়ে কোম্পানি (CPRC) নামে একটি সংস্থা গঠন করা হয়।
পরবর্তীকালে ১৯১৬ সালে এই লাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। শুরুতে কেবল মালপত্র বা তুলো পরিবহনের জন্যই এই রেললাইন ব্যবহৃত হলেও, সাধারণ মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে পরে যাত্রীবাহী ট্রেনও চালু করা হয়। এভাবেই ধীরে ধীরে শকুন্তলা রেলওয়ে মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
জাতীয়করণের যুগেও ব্যতিক্রমী অবস্থান
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫২ সালে দেশের সমস্ত ছোট-বড় রেল ব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জাতীয়করণ করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সময় দেশের বাকি সমস্ত বেসরকারি রেললাইন ও কোম্পানি ভারতীয় রেলের সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। কিন্তু এক অদ্ভুত নিয়মে শকুন্তলা রেলওয়ে লাইনটি সম্পূর্ণ বেসরকারি মালিকানাতেই থেকে যায়।
আজও সেন্ট্রাল প্রভিন্স রেলওয়ে কোম্পানির (CPRC) আইনি অধিকারেই রয়েছে এই লাইনটি। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিলিক-নিক্সন কোম্পানিটির মালিকানা ব্রিটিশদের হাত থেকে ভারতীয়দের হাতে স্থানান্তরিত হয়েছে, কিন্তু এই লাইনে ট্রেন পরিচালনার যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভাল করে ভারতীয় রেলই। অর্থাৎ, জমির লাইনটি প্রাইভেট কোম্পানির হলেও সেখানে ট্রেন চালাচ্ছে সরকার—এই বিশেষ ও অনন্য চুক্তির জন্যই শকুন্তলা রেলওয়ে আজও ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক্কেবারে আলাদা এবং কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।