‘আমাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই!’ দুর্গাপুজো পাস বিতর্কে ইউনেস্কোর কড়া জবাবে ফেঁসে গেলেন ধৃতরা

দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় তদন্তে এল এক বিরাট মোড়। ইউনেস্কোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে পাস বিক্রির এই চাঞ্চল্যকর কারবারে এবার সরাসরি জবাব দিল আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। লালবাজারের পাঠানো ইমেলের উত্তরে ইউনেস্কো সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘মাস আর্ট’ নামে অভিযুক্ত ওই সংস্থার সঙ্গে তাদের বিন্দুমাত্র কোনো চুক্তি, সমঝোতা বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। শুক্রবার আদালতে শুনানির সময় রাজ্য সরকারের আইনজীবী আনুষ্ঠানিকভাবে এই জবাব পেশ করতেই মামলার গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

লালবাজারের জালে আন্তর্জাতিক জালিয়াতির তথ্য

পুজোর মরসুমে ইউনেস্কোর অমূল্য হেরিটেজ স্বীকৃতিকে হাতিয়ার করে শুরু হয়েছিল ভিআইপি পাস বিক্রির রমরমা কারবার। অভিযোগ ওঠে, আন্তর্জাতিক সংস্থার লোগো ও নাম ব্যবহার করে সাধারণ পুজোপ্রেমীদের কাছে বিপুল সংখ্যক পাস চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

এই জালিয়াতির উৎস ও শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশের লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। তারা সরাসরি যোগাযোগ করে ইউনেস্কো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। পাস তৈরি, প্রচার কিংবা বিপণনের জন্য ‘মাস আর্ট’ নামের সংস্থাকে আদৌ কোনো অনুমতি বা বৈধতা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চেয়ে মেল পাঠানো হয়।

তারই জবাবে ইউনেস্কো পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ওই সংস্থার সঙ্গে তাদের কোনো ব্যবসায়িক যোগ নেই। শুক্রবার আদালতে রাজ্য সরকারের আইনজীবী এই ইমেলটি পেশ করার পর তদন্তকারীরা আরও নিশ্চিত হয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ভাঙিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি ও প্রতারণামূলকভাবে এই পাস ব্যবসা চালানো হচ্ছিল।

আরও বাড়ল ইন্দ্রনীল সেন ও ধৃতদের আইনি চাপ

এই হাই-প্রোফাইল আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। পাশাপাশি, তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের পরিচিত ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে ধ্রুবজ্যোতি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে জেরা করে পাস বিক্রির গোটা চক্র, এর নেপথ্যে থাকা মূল মাথা এবং সংগৃহীত কোটি কোটি টাকার শেষ গন্তব্য কোথায়—তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। ইউনেস্কোর এই স্পষ্ট বিবৃতির পর যে ধৃতদের আইনি অস্বস্তি এবং জালের ফাঁস আরও বহু গুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুর্গাপুজোর ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ’ স্বীকৃতি প্রতিটি বাঙালির কাছে চরম গর্বের বিষয়। সেই পবিত্র আন্তর্জাতিক আবেগকে পুঁজি করে যদি বাণিজ্যিক ফায়দা লোটার নামে এই ধরনের প্রতারণা হয়ে থাকে, তবে তা কেবল নিছক আর্থিক অপরাধ নয়, বরং সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের চরম অপব্যবহার। এখন লালবাজারের তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, এই কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্যের নেপথ্যে থাকা রাঘববোয়ালদের এক এক করে চিনে বের করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *