‘সমাজ বাঁকা চোখে তাকাত, সেই দিন এখন অতীত!’ এশিয়ান প্যারা গেমসে ইতিহাস গড়া বীরদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এশিয়ান প্যারা গেমসে ইতিহাস সৃষ্টি করা ভারতীয় অ্যাথলিটদের দুর্দান্ত সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১০ সালের প্রথম আসরে ভারতের ঝুলিতে যেখানে মাত্র ১৪টি পদক এসেছিল, ২০২৬ সালে সেই সংখ্যাটা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সফল প্যারা অ্যাথলিটদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তাঁদের সংবর্ধনা জানান এবং পিঠ চাপড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য এবং যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রক্ষা খাড়সে।
অ্যাথলিটদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ একটি বিশেষ পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেখেন, “১৪ থেকে ১১৪-তে পৌঁছানোটা শুধু একটা সংখ্যা নয়, এটা আমাদের অ্যাথলিটদের বিশাল প্রতিভা, অদম্য জেদ আর অসামান্য সম্ভাবনার উজ্জ্বল প্রমাণ।” এবারের গেমসে ভারত মোট ৩০টি স্বর্ণপদক জেতার পাশাপাশি ৫টি বিশ্ব রেকর্ড এবং ৯টি এশিয়ান রেকর্ড গড়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। এমনকি ৪টি ইভেন্টে পুরো পোডিয়াম বা বিজয় মঞ্চ দখল করে নিয়েছিলেন ভারতীয় অ্যাথলিটরাই, যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
অতীত বনাম বর্তমানের দারুণ চিত্র: অতীতে দেশে খেলাধুলা নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল, তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করতে চাইলে সমাজ বাঁকা চোখে তাকাত, সেই দিন এখন অতীত। এখন প্রতিভা থাকলে গোটা দেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়।”
পাশাপাশি, এদিনের পোস্টে তিনি দুটি বিশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান— এবার ৬১ জন নতুন অ্যাথলিট প্রথমবার এশিয়ান প্যারা গেমসে অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৩৬ জনই পদক জিতে ইতিহাস গড়েছেন। এছাড়া ৫৬ জন নারী অ্যাথলিটের মধ্যে ৩৪ জনই পদক গলায় ঝুলিয়েছেন, যা নারী শক্তির অদম্য অগ্রযাত্রাকেই ফুটিয়ে তোলে। উল্লেখ্য, এর আগে হাংঝাউ গেমসে ৩০৯ জন অ্যাথলিট গিয়ে ১০৮টি পদক জিতেছিলেন, আর এবার মাত্র ১৬৮ জন প্যারা অ্যাথলিটের ছোট দল নিয়েই আইচি-নাগোয়া থেকে ১১৪টি পদক জিতে ভারত প্রমাণ করে দিয়েছে— মনের জোর আর জেদ থাকলে কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়।