বকেয়া পুরভোট নিয়ে বড়সড় ধোঁয়াশা! আচমকাই ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়ে দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন

২০২১ সালের শেষে কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচন এবং তার ঠিক কয়েকমাস পর ২০২২ সালের শুরুতে রাজ্যের বাকি সমস্ত পুরসভা ও পুরনিগমে একসঙ্গে ভোট হয়েছিল। সেই হিসেবে কেটে গিয়েছে প্রায় পাঁচ বছর। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচনের সময় আসন্ন হলেও, ঠিক কবে রাজ্যে পুরভোট অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছেই না। এর মধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এক সাম্প্রতিক নির্দেশিকা সেই জল্পনা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভোটার তালিকা প্রকাশে স্থগিতাদেশ ও কমিশনের নির্দেশিকা

চলতি বছরের শেষের দিকেই কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচন হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোড় গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। আগামী ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল এবং সেই দিনক্ষণ দেখেই ভোটের দিন নিয়ে নানা হিসাব কষছিলেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে বৃহস্পতিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিল যে, নির্দিষ্ট ওই দিন আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে না।

কমিশনের তরফে ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করা হলেও, ঠিক কতদিন এই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে কিংবা কবে নাগাদ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। আর এই খবরের পরেই রাজ্যজুড়ে ভোট নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

এদিন কমিশনের এই নির্দেশিকাটি বিশেষভাবে পাঠানো হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা পুরনিগমের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তথা জেলা পুর নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে। পাশাপাশি হাওড়া, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, পুরুলিয়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে। রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, বিভিন্ন মহকুমাশাসক, কলকাতা পুরনিগমের কমিশনার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।

দীর্ঘকাল ধরে প্রশাসক রাজ, উদগ্রীব সাধারণ ভোটাররা

উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতা পুরনিগমের মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ একাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় বোর্ড ভেঙে গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ পুরসভাতেও নির্বাচিত বোর্ড নেই, পরিবর্তে প্রশাসকের মাধ্যমেই চলছে পুর-প্রশাসন পরিচালনা। দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া নাগরিক পরিষেবা চলায় এবং ভোটের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ না মেলায় আমজনতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলি—সকলেই এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে কবে এই প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *