মায়ের কৃপায় মিলছে দেদার লক্ষ্মীলাভ! বাজারের দর সামলাতে হিমশিম ফুলচাষিরা, কেন এত চাহিদা?

কালীপুজো মানেই মা শ্যামার চরণে রক্তজবার অর্ঘ্য নিবেদন! দেবী কালীর পুজোয় লাল জবা ছাড়া যেন আরাধনাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আর প্রতি বছরের মতো এবারও সেই ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে বাজারে হু-হু করে বাড়ছে লাল জবা ফুলের চাহিদা। জবা ফুলের আকাশছোঁয়া এই চাহিদার মুখে হাসি ফুটেছে নদিয়ার ধানতলার ফুলচাষিদের। কালীপুজোর পুণ্যলগ্নে আরও চড়া দর পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন এলাকার কৃষকরা।

১. নদিয়ার ধানতলায় জবা চাষের ঐতিহ্য ও চাহিদা

রাজ্যের অন্যতম প্রধান ফুল উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে আলাদা পরিচিতি রয়েছে নদিয়া জেলার ধানতলার। এখানকার উৎপাদিত গোলাপ, গাঁদা ও জবা ফুল রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে পাড়ি দেয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি বিদেশেও। সারা বছর বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে জবা ফুলের প্রয়োজন থাকলেও, কালীপুজোর সময়ে এই চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য দামি ফুলকে পেছনে ফেলে বাজারদরে এখন বাজিমাত করছে লাল জবা।

২. হালালপুর গ্রামে আশার আলো ও বাস্তবের চিত্র

ধানতলা থানার অন্তর্গত হালালপুর গ্রামের প্রায় ২০ থেকে ৩০টি পরিবার সরাসরি জবা ফুল চাষের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় চাষিরা জানান, সারা বছর বাজারে জবা ফুলের প্রত্যাশিত দাম না মেলায় অনেকেই লাভের মুখ দেখতে পারেন না। এর ফলে কেউ কেউ এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনাও করছিলেন। তবে শ্যামাপুজোর উৎসব আসতেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এই মরশুমটিই তাঁদের সারা বছরের বাড়তি উপার্জনের মূল ভরসা।

৩. বাম্পার আয়ের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন কৃষকরা

পুজোর দিনগুলোতে জবা ফুলের দর আরও চড়বে বলে আশা করছেন ধানতলার জবা চাষিরা। সারা বছরের মন্দা কাটিয়ে এই কালীপুজোতেই মায়ের কৃপায় ভালো অঙ্কের লক্ষ্মীলাভ হবে এবং ঘরে ফিরবে বাড়তি আর্থিক স্বস্তি— এই আশাতেই এখন দিন গুনছেন হালালপুরের প্রতিটি ফুলচাষি পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *