১৫ লাখ টাকার ঋণের বোঝা আর একটি তুচ্ছ গরু নিয়ে রক্তগঙ্গা! থানায় গিয়ে যা স্বীকার করল ঘাতক স্বামী

ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে নিজের একটি গরু বিক্রি করতে চেয়েছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু স্ত্রী তাতে প্রবল বাধা দেওয়ায় শুরু হয় চরম অশান্তি। আর সেই রাগের বশে স্ত্রীর ওপর দিয়েই পিকআপ ভ্যান চালিয়ে দিয়ে তাঁকে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। রোমহর্ষক এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১. ১৫ লক্ষ টাকার ঋণ ও গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম চুন্নিলাল কুমওয়াত (৫৬) এবং তাঁর নিহত স্ত্রীর নাম চুঙ্কি (৫২)। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যায় সিকান্দরপুরের কোলিডা গ্রামে। জানা যায়, চুন্নিলালের মাথায় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার বিপুল পরিমাণ ঋণ জমে গিয়েছিল। সেই ঋণ শোধ করার জন্য তিনি তাঁর দুই ছেলের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু দুই ছেলেই পেশায় টাইলস বসানোর কাজ করায় এবং আয় কম থাকায় তাঁরা বাবার ঋণ মেটানোর মতো পরিস্থিতিতে ছিলেন না।

এর পরই উপায় না দেখে নিজের একটি গরু বিক্রি করে ঋণের কিছুটা অংশ মেটানোর সিদ্ধান্ত নেন চুন্নিলাল। কিন্তু সেই গরুটি বিক্রি করতে কঠোরভাবে বাধা দেন তাঁর স্ত্রী চুঙ্কি।

২. রাগের বশে স্ত্রীর ওপর পিকআপ ভ্যান তুলে দেওয়া

বুধবার বিকেলে কাজ সেরে বাড়ি ফিরে ফের গরু বিক্রির প্রসঙ্গ তোলেন চুন্নিলাল। স্ত্রী বাধা দেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া শুরু হয়। এরপরই রাগে অন্ধ হয়ে পেশায় চালক চুন্নিলাল তাঁর পিকআপ ভ্যানটি নিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে যান এবং সেখানেই স্ত্রীর ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেন। গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই গৃহবধূ।

৩. নিজেই থানায় গিয়ে অপরাধ স্বীকার করল ঘাতক স্বামী

নৃশংস এই কাণ্ড ঘটানোর পর পালিয়ে না গিয়ে সোজা স্থানীয় থানায় হাজির হন অভিযুক্ত চুন্নিলাল। সেখানে গিয়ে তিনি পুলিশ আধিকারিকদের সামনে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন।

স্থানীয় থানার পুলিশকর্তা রাকেশ কুমার মীনা জানিয়েছেন, ঋণের টাকা মেটানো নিয়ে পরিবারে প্রায়শই অশান্তি লেগেই থাকত। গরু বিক্রি করতে না দেওয়ার ক্ষোভেই যে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *