. চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো এবার ‘রাজ্য মেলা’! একধাক্কায় কত কোটি টাকা বরাদ্দের বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী?

উৎসবের মরশুমে হুগলিবাসী তথা সমগ্র রাজ্যবাসীর জন্য পরপর বড়সড় ধামাকা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্বখ্যাত চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রাজ্য মেলা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ঘোষণা করল নতুন রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়ায় আয়োজিত ‘কৃষক সম্মান নিধি’ প্রকল্পের মেগা উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
জগদ্ধাত্রী পুজোকে এক আন্তর্জাতিক মাত্রায় পৌঁছে দিতে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর থেকে প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি টাকা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে আরও অর্থ বরাদ্দ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি আসন্ন ছটপুজোর জন্যও রাজ্য জুড়ে বিশেষ পরিকাঠামোগত ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুজো অনুদান থেকে চোরবাগান কাণ্ড—সরকারের মানবিক মুখ
বিগত আমলের সঙ্গে তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় তাঁর সরকার কোনো কার্পণ্য করছে না।
-
রেকর্ড পুজো অনুদান: গত বছর যেখানে ৪৫ হাজার দুর্গাপুজো সরকারি আর্থিক সাহায্য পেয়েছিল, সেখানে এ বছর বিজেপি সরকার ৫৮ হাজার পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দিয়েছে। অর্থাৎ একধাক্কায় নতুন করে আরও ১৩ হাজার পুজো কমিটিকে এই সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।
-
চোরবাগান কাণ্ডে স্থায়ী চাকরি ও অর্থ সাহায্য: চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত দিনের কোনও সরকার মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ায়নি। কিন্তু বর্তমান মানবিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং পরিবারের একজনের জন্য স্থায়ী চাকরির বন্দোবস্ত নিশ্চিত করেছে।”
আরামবাগ নতুন জেলা ও ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র বড় আপডেট
হুগলির প্রশাসনিক কাঠামো এবং সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে জোড়া চমক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাজেটের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, শীঘ্রই আরামবাগকে পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটানো হবে।
সামাজিক সুরক্ষায় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র খতিয়ান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী জানান, হুগলি জেলায় ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ ৩ হাজার ৯৪৬ জন নারী এই প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন, যার মধ্যে কেবল পুরশুড়াতেই রয়েছেন ৭২ হাজার জন উপভোক্তা। এখনও যদি কোনও যোগ্য মহিলা বাদ থেকে থাকেন, তাঁকেও এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এছাড়া ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনা’-য় জেলায় ৫৯ হাজার ৪৭৭ জনের ঘরের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। রাজ্যজুড়ে আর কোনও কাঁচা ছাদ বা টিন-টালি-হোগলার ঘর রাখা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরা এবং ১২৫ দিনের মেগা কাজ
রাজ্যের অর্থনীতিকে সচল করতে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিটেমাটিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘ভিবি জি রাম জি’ প্রকল্পে কাজের দিন বৃদ্ধি করে ১২৫ দিন করা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ২২ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পে কাজ করছেন এবং ৩১ মার্চের মধ্যে ২২ কোটি শ্রম দিবস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাব দিয়ে বলেন, “পরিবারে দুজন জব কার্ড হোল্ডার থাকলে তাঁরা বছরে ৬৯ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবেন। এর সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা, বর্ধিত বার্ধক্য ভাতা এবং নতুন জব কার্ডের সুযোগ তো থাকছেই।”
সবশেষে সরকারের ছ’মাসের কাজের খতিয়ান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্থায়ী পুলিশ নিয়োগ থেকে শুরু করে সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, অঙ্গনওয়াড়ি (ICDS), আশা কর্মী, পার্টটাইম ও প্যারা-টিচারদের ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তৃণমূল স্তর থেকে উচ্চ পর্যায়—সর্বত্র কাজের সুযোগ তৈরি করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।