“অ্যাকশন নিন, ২৪ ঘণ্টায় পেন্সিলের মতো সোজা হয়ে যাবে!” শমীককে বিস্ফোরক পরামর্শ অর্জুন সিংয়ের

দলের অন্দরে তোলাবাজি ও তীব্র শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ঘিরে এবার চরম অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোজা দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে কড়া পদক্ষেপের সোজা সাপ্টা দাবি তুললেন ব্যারাকপুরের দাপুটে নেতা অর্জুন সিং। তোষামোদ বা মৌখিক সতর্কতায় যে কাজ হবে না, তা স্পষ্ট করে শমীককে তাঁর খোলামেলা পরামর্শ—অভিযোগ উঠলেই মন্তব্য করে থেমে থাকলে চলবে না, সরাসরি কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের পরিচিত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে অর্জুন বলেন, “সভাপতিকে উপদেশ দেওয়ার মতো বড় আমি নই। তবে পরামর্শ দেব, এবার অ্যাকশন নিন! পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব পেন্সিলের মতো সোজা হয়ে যাবে।” তবে ঠিক কোন নেতা বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই কড়া ব্যবস্থার ইঙ্গিত তিনি দিয়েছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখায় দলের ভেতরের জল্পনা চরম মাত্রায় পৌঁছেছে।
অর্জুন বনাম কৌস্তভ: ব্যারাকপুরের বুকে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ
উল্লেখ্য, অর্জুনের এই বিস্ফোরক বার্তার আগেই তাঁকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে ক্ষোভের সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল। তৃণমূলের বিতর্কিত নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে অর্জুন সিংকে দেখা যাওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে তীব্র আপত্তি তুলেছিলেন দলের তরুণ নেতা কৌস্তভ বাগচী।
এক সাংবাদিক বৈঠকে কৌস্তভ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছিলেন, “মনীশ শুক্লার বাবা যেখানে তাঁর ছেলের হত্যা মামলায় তৃণমূল নেতা উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীর নাম এফআইআর-এ লিখছেন, সেখানে আমাদের দলের নেতারা যদি সেই একই মঞ্চে থাকেন, তা দেখতে মোটেও ভালো লাগে না। এতে সাধারণ মানুষের কাছে দলের মুখ পোড়ে, আমরা ছোট হই।” কৌস্তভের দাবি ছিল, তৃণমূলের ওই নেতারা বিজেপিতে ঢোকার ফিকির খুঁজছেন আর তাই অর্জুনের মতো প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ হতে চাইছেন।
তোলাবাজি বনাম দলবদল: তুঙ্গে জল্পনা
যদিও সে সময় কৌস্তভের সেই অভিযোগ নিয়ে অর্জুন নিজে সরাসরি মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন, কিন্তু তাঁর অনুগামীরা কৌস্তভের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন। এবার কাকতালীয়ভাবে কৌস্তভের বিরুদ্ধেও দলের অন্দরে তোলাবাজির পাল্টা অভিযোগ মাথাচাড়া দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে।
যদিও অর্জুন সিং এদিন কারো নাম নির্দিষ্ট করে মুখে আনেননি, কিন্তু দলের ভেতরে জমে থাকা তোলাবাজির জঞ্জাল সাফ করতে তাঁর এই “পেন্সিলের মতো সোজা” করার হুঁশিয়ারি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর যে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।