আইনেই মানা বিচ্ছেদ! মনের দূরত্ব বাড়লেও কেন একসঙ্গে থাকতে বাধ্য হন এইসব দেশের দম্পতিরা?

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক সমাজে দাম্পত্য সম্পর্কের সমীকরণ ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বিপুল পরিবর্তন এসেছে। এক ছাদের নীচে থাকতে গিয়ে যখন দুজন মানুষের মধ্যে মনের দূরত্ব তৈরি হয় এবং বোঝাপড়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, তখন আপসের বদলে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন অনেকেই। আগে বিবাহবিচ্ছেদ বা ডিভোর্স নিয়ে সমাজে নানা ছুঁতমার্গ থাকলেও, বর্তমানে এটি একটি স্বাভাবিক ও আইনি প্রক্রিয়া হিসেবেই গণ্য হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, বিশ্বের এমন কিছু দেশ রয়েছে যেখানে বিবাহবিচ্ছেদ লাভ করা একেবারেই অসম্ভব?

১. মানসিক দূরত্ব বাড়লেও মেলেনা মুক্তি

আইনগত বা সামাজিকভাবে বিশ্বজুড়ে বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়ে উঠলেও কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশে আজও বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বেআইনি। এসব দেশে দম্পতিদের মধ্যে সম্পর্ক যতটাই তিক্ত হোক বা তাঁরা আলাদা থাকতে চান না কেন, আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই।

২. ধর্মীয় ও সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা

মূলত ভ্যাটিকান সিটি এবং ফিলিপিন্সের মতো দেশে ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কড়া সামাজিক আইনের কারণে বিবাহবিচ্ছেদকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। ক্যাথলিক খ্রিষ্টধর্মের প্রাচীন নিয়ম ও দেশের সংবিধান অনুসারে বিবাহকে একটি অখণ্ড পবিত্র বন্ধন বলে মনে করা হয়। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বিরোধ তৈরি হলেও বিচ্ছেদের আর্জি আদালত সরাসরি খারিজ করে দেয়।

৩. সাধারণ মানুষের পরিণতি ও আইনি জটিলতা

এই কড়া আইনের কারণে অনেকেই চরম বাধ্যবাধকতার মধ্যে থেকে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হন, অথবা আইনি ফাঁকফোকর খুঁজে কোনো বিকল্প সমাধানের পথ খোঁজেন। আধুনিক বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যখন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আইনি বিচ্ছেদকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তখন এই দেশগুলোর এমন বৈষম্যমূলক ও প্রাচীন নিয়ম বিশ্বজুড়ে প্রায়শই চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *