গুয়াহাটির সেই নৃশংস ৫ মার্ডারের বদলে এনকাউন্টার! হ্যান্ডকাফ খুলে পিস্তল ছিনতাইয়ের চেষ্টা শুটারের, এনকাউন্টারে খতম ঘনকান্ত

লিজ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে গুয়াহাটির অভিজাত হোটেলে একই পরিবারের চার সদস্য-সহ মোট পাঁচজনকে গুলি করে ঝাঁঝরা করার সেই রোমহর্ষক ঘটনায় অবশেষে চূড়ান্ত পরিণতি। পুলিশের হেফাজত থেকে চম্পট দেওয়ার দুঃসাহসিক চেষ্টা চালিয়ে শেষ রক্ষা হলো না। অসম পুলিশের হাত থেকে সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার পর, আত্মরক্ষার্থে পুলিশের চালানো পালটা গুলিতে এনকাউন্টারে (Assam Police Encounter) মৃত্যু হলো নৃশংস সেই গণহত্যার প্রধান অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের (৩৪)।
বুধবার গভীর রাতে অত্যন্ত নাটকীয় পরিস্থিতিতে গুয়াহাটি থেকে শিবসাগরে স্থানান্তরের সময় পথেই এই এনকাউন্টারের ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আশঙ্কাজনক ঘনকান্তকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কীভাবে ঘটল এই নাটকীয় এনকাউন্টার?
পুলিশের উচ্চপদস্থ সূত্রের খবর, টানা সাত দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবারই ঘনকান্তকে কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছিল। তবে মামলার চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য ও আনুষঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহের তাগিদে বুধবার তাকে গুয়াহাটি থেকে শিবসাগরে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশের বিশেষ দল।
ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়ে এসএসপি পাপড়ি চেতিয়া জানান, শিবসাগরের দিকে যাওয়ার পথে গাড়িতে থাকা অবস্থাতেই আচমকা শৌচাগারে যাওয়ার কাতর আর্জি জানায় ঘনকান্ত। সরল বিশ্বাসে গাড়ি থামিয়ে তাকে নিচে নামানো মাত্রই চরম দুঃসাহস দেখায় সেই পেশাদার শুটার। সে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সাথে থাকা এক তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকের সার্ভিস পিস্তলটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এসএসপি জানান, “যেহেতু ঘনকান্ত একজন দুর্ধর্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শুটার ছিল, সে নিমেষের মধ্যে আমাদের আধিকারিককে পরাস্ত করার চেষ্টা চালায়। দুই পক্ষের ধস্তাধস্তির মাঝেই আধিকারিকের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে পর পর তিন রাউন্ড গুলি চলে যায়। সেই মুহূর্তে নিজের সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে এবং ওই বিপজ্জনক অপরাধীকে পরাস্ত করতে বাধ্য হয়ে এক পিএসও (PSO) নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে পালটা গুলি চালান।”
গুলির আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে অভিযুক্ত। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এই তুমুল ধস্তাধস্তির কারণে এক পুলিশ আধিকারিকের ডান পায়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
কী ঘটেছিল গুয়াহাটির সেই ‘হোটেল বিলাস ইন’-এ?
গত ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির অন্যতম জনপ্রিয় ‘হোটেল বিলাস ইন’-এ নেমে এসেছিল বিভীষিকা। হঠাৎই অতর্কিতে প্রবেশ করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে দেদার গুলিবর্ষণ করে ঘনকান্ত। রক্তে ভেসে যায় পুরো হোটেল চত্বর। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে প্রাণ হারান মোট পাঁচজন, যার মধ্যে চারজনই ছিলেন ওই হোটেলের মালিকপক্ষের পরিবারের সদস্য।
ঘটনার পরপরই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিলেও মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় অসম পুলিশের তৎপরতায় গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ। তদন্তে বেরিয়ে আসে, হোটেলের মালিকপক্ষ এবং লিজ হোল্ডারের (Leaseholder) মধ্যে কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পুরনো বিবাদের জেরেই ঘটানো হয়েছিল এই প্রকাশ্য গণহত্যা। ঘটনার শিকড়ে পৌঁছাতে অসম পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তৈরি করা হয়েছিল। মামলায় চার্জশিট পেশের আগেই শেষ হয়ে গেল এই রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের খলনায়ক।