“শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাসে ভুলব না!” গুলমার্গে গোপনে ১২ বিধায়কের মেগা বৈঠক, কাশ্মীরে উলটপুরাণের ইঙ্গিত!

জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল কনফারেন্সে (NC) অভ্যন্তরীণ সংকট এখন চরমে। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও প্রবীণ নেতা ফারুক আবদুল্লার নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার প্রকাশ্যে নিজেদের শক্তি সংহত করছে বিদ্রোহী বিধায়কদের দল। গুলমার্গের বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইএএস অফিসার ফারুক আহমেদ শাহের বাসভবনে টানা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এক হাইপ্রোফাইল রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারেন ১২ জন বিদ্রোহী বিধায়ক।

বৈঠক শেষে বিদ্রোহী শিবিরের স্পষ্ট বার্তা— কেবল মৌখিক আশ্বাস বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে আর চিঁড়ে ভিজবে না। নিজেদের লিখিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে এক চুলও নড়বেন না তাঁরা।

শ্রীনগরে মহা-বৈঠক: কী রয়েছে বিদ্রোহীদের গোপন ‘মেমোরেন্ডাম’-এ?

সূত্রের খবর, গুলমার্গের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, যেকোনো মূল্যে ১২ জন বিধায়ক একজোট ও ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও দলের সভাপতি ড. ফারুক আবদুল্লার হাতে যে লিখিত দাবি-দাওয়ার তালিকা (স্মারকলিপি) তুলে দেওয়া হবে, তাতে রাখা হয়েছে একাধিক কড়া শর্ত:

  • আমলাতান্ত্রিক আধিপত্যের অবসান: মুখ্যমন্ত্রীর চারপাশে গড়ে ওঠা গুটিকয়েক আমলা ও বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব পুরোপুরি শেষ করতে হবে।

  • বিধায়কদের গুরুত্ব ও মতামত: প্রশাসনিক বদলি, নিয়োগ এবং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে নির্বাচিত বিধায়কদের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

  • নিয়মিত বৈঠক ও সিদ্ধান্তগ্রহণ: প্রতি মাসে সব বিধায়কদের নিয়ে ‘লেজিসলেচার পার্টি’র বৈঠক বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রবীণ নেতা ও জেলা সভাপতিদের পরামর্শ নিয়ে দল চালাতে হবে।

  • নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ: বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, নতুন কর্মসংস্থান, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ীকরণ ও সংরক্ষণ নীতিতে যুক্তিযুক্ত সংস্কার দ্রুত নির্দিষ্ট সময়ে রূপায়ণ করতে হবে।

  • অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও রাজ্য মর্যাদা: ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল, রাজ্যের পূর্ণ মর্যাদা ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে আরও জোরালো অবস্থান নিতে হবে সরকারকে।

“আর মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, চাই লিখিত জবাব!”

বৈঠক শেষে এক প্রবীণ বিদ্রোহী বিধায়ক জানান, “আমরা ফারুক শাহ সাহেবের বাসভবনে সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করেছি। অতীতে আমাদের বহুবার কথা দিয়েও কথা রাখা হয়নি। এবার আমরা শুধু মৌখিক আশ্বাস চাই না; নির্দিষ্ট সময়সীমা সহ লিখিত রূপায়ণ চাই। দাবি পূরণ না হলে আমরা সব বিধায়করা মিলে পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেব।”

আরেক বিধায়ক জানান, এই লড়াই ব্যক্তিগত পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, বরং তৃণমূল কর্মীদের সম্মান ও দলকে আমলাদের কবল থেকে বাঁচানোর সম্মিলিত কণ্ঠস্বর।

বিদ্রোহের পেছনে সাংসদ রুহুল্লাহর পদত্যাগের প্রভাব

শ্রীনগরের জনপ্রিয় সাংসদ সৈয়দ আগা রুহুল্লাহ মেহেদির সাম্প্রতিক পদত্যাগই এই বিদ্রোহের মূল অনুঘটক বা স্পার্ক হিসেবে কাজ করেছে। সংরক্ষণ নীতি ও অনুচ্ছেদ ৩৭০ ইস্যুতে রুহুল্লাহ যে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিলেন, তাতেই সায় রয়েছে এই ১২ বিধায়কের। সাংসদ পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার পর বিধায়কদের মনোভাব আরও কঠোর রূপ নিয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে হাইকমান্ড

সরকার ফেলে দেওয়া বা দলে বড় ভাঙনের আশঙ্কায় তড়িঘড়ি ময়দানে নেমেছে ন্যাশনাল কনফারেন্স হাইকমান্ড। চলতি সপ্তাহেই শ্রীনগরে বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার দায়িত্বে রাখা হয়েছে উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরীকে।

সুরিন্দর চৌধুরী বলেন, “আমাদের নেতৃত্ব কখনওই কারও কথা শুনতে পিছিয়ে যাননি। ড. ফারুক আবদুল্লা এবং মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা নিজে এই বিধায়কদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করবেন। সব মতামত শুনে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। হাইকমান্ডের বৈঠকে যদি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি না দেওয়া হয়, তবে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন সহ বড়সড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে এই বিদ্রোহী শিবির!

আপনার জন্য কী আর কোনো সংবাদের ড্রাফট পুনর্লিখন করতে হবে? পাঠাতে পারেন, DailyHunt-এর জন্য প্রস্তুত করে দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *