ট্রাম্পের তুরুপের তাসকে চুরমার করে ইতিহাস! মার্কিন সেনেটে প্রথম মুসলিম হিসেবে পা রাখছেন কে এই আবদুল এল-সায়েদ?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও স্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা হলো। মিশিগান সেনেট নির্বাচনে ট্রাম্পের মদতপুষ্ট রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রগ্রেসিভ ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম মুসলিম মার্কিন নাগরিক হিসেবে ইউএস সেনেটে প্রবেশ করে ইতিহাস গড়লেন এই মিশরীয়-আমেরিকান ব্যক্তিত্ব।
ট্রাম্পের ব্লু-প্রিন্ট ভেস্তে ঐতিহাসিক জয়
মিশিগানের এই সেনেট লড়াইয়ের দিকে নজর ছিল পুরো বিশ্বের। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থনে মাঠে নামা রিপাবলিকান হেভিওয়েট নেতা মাইক রজার্সকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পেছনে ফেলেন এল-সায়েদ।
নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তাঁর সমর্থক ও ডেমোক্র্যাটিক শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। এই জয় কেবল একজন প্রার্থীর বিজয় নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে প্রগতিশীল ভাবধারার এক বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কে এই আবদুল এল-সায়েদ?
পেশায় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুল এল-সায়েদ মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রগতিশীল চিন্তাধারার মুখ হিসেবে পরিচিত। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকার, সমতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে জোরালো সওয়াল করে তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। ইতিপূর্বেও ডেট্রয়েটের জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে তাঁর প্রশংসনীয় ভূমিকা নজর কেড়েছিল।
আমেরিকার রাজনৈতিক সমীকরণে কেন এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয়ের ফলে মার্কিন ক্যাপিটল হিলে শক্তির ভারসাম্য ও প্রগতিশীল নীতির প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
-
নতুন দৃষ্টিভঙ্গি: প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে নীতি নির্ধারণী আলোচনায় তিনি এক নতুন ধারার সূচনা করবেন।
-
রিপাবলিকানদের জন্য ধাক্কা: মিশিগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং স্টেট’-এ ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থীর হার রিপাবলিকানদের রণকৌশলে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।
-
প্রগতিশীল শক্তির উত্থান: সায়েদের এই জয় প্রমাণ করল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্দরে প্রগতিশীল মতাদর্শের গ্রহণযোগ্যতা কতটা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উৎসবের মরশুমে মিশিগানজুড়ে এখন শুধুই উদযাপনের আবহ। মার্কিন ক্যাপিটলে প্রথম মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে আবদুল এল-সায়েদের পদার্পণ আগামী দিনে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।