হালকা শীতে রুক্ষ ত্বকে ফিরুক সোনালী চমক! পার্লার ছাড়াই ৪টি ঘরোয়া উপটানে ত্বক হবে দুধের মতো ফর্সা ও নরম

ক্যালেন্ডারে হিমেল পরশ জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। আর ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বাতাসে আর্দ্রতা কমতে শুরু করতেই তার প্রথম প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। হালকা শীতেই ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে শুষ্ক, খসখসে ও মলিন হতে শুরু করে। অনেকেই এই সময় বাজারচলতি কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম বা নামীদামী ফেসপ্যাকের দিকে ঝোঁকেন। তবে প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদিক রূপচর্চায় মা-ঠাকুমার যুগ থেকেই ত্বকের পরম বন্ধু হিসেবে স্থান পেয়েছে ‘উপটান’ বা উবটান। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি উপটান ত্বকের কোনো ক্ষতি না করেই গভীরে জমা ময়লা ও মৃত কোষ দূর করে ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখে। হালকা শীতে আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী কীভাবে ঘরেই তৈরি করবেন ৪টি জাদুকরী উপটান, একনজরে দেখে নেওয়া যাক। ১. বেসন, কাঁচা দুধ ও হলুদের প্রথাগত উপটান (স্বাভাবিক ত্বকের জন্য) প্রথাগত এই উবটান ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং সানট্যান তুলতে জাদুর মতো কাজ করে। বানানোর উপায়: ২ চামচ বেসন, ১ চিমটে খাঁটি হলুদ গুঁড়ো, সামান্য কাঁচা দুধ এবং কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। উপকারিতা: বেসন ত্বক পরিষ্কার করে, হলুদ অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে এবং কাঁচা দুধ শীতে ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করে। ২. ওটস, আমন্ড ও চন্দনের পুষ্টিকর উপটান (শুষ্ক ত্বকের জন্য) হালকা শীতে যাঁদের ত্বক মাত্রাতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, তাঁদের জন্য এই উপটানটি অত্যন্ত উপযোগী। বানানোর উপায়: ১ চামচ ওটসের গুঁড়ো, ১ চামচ আমন্ড বাদাম পেস্ট, ১ চামচ চন্দন গুঁড়ো এবং পরিমাণমতো ঘন টক দই বা ফ্যাটযুক্ত দুধ মিশিয়ে নিন। উপকারিতা: ওটস ও আমন্ডের পেস্ট শুষ্ক ত্বকের খসখসে ভাব দূর করে গভীরভাবে পুষ্টি জোগায় এবং ত্বককে রেশমের মতো কোমল করে তোলে। ৩. কাঁচা হলুদ, কেশর ও মধুর অ্যান্টি-এজিং উপটান (ত্বকের জেল্লা বাড়াতে) ত্বকে দ্রুত গোলাপি আভা ও উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে এই রাজকীয় উপটানের জুড়ি মেলা ভার। বানানোর উপায়: ১ চামচ বেসনের সঙ্গে কাঁচা হলুদ বাটা, দুধে ভিজিয়ে রাখা ২-৩টি কেশরের পেস্ট এবং ১ চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। উপকারিতা: কেশর ও মধু ত্বককে ভেতর থেকে দীপ্তিময় করে এবং বয়সের ছাপ বা বলিরেখা পড়তে দেয় না।৪. মুসুর ডাল, টক দই ও নিম পাতার উপটান (তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য)যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত বা ঘনঘন ব্রণ হয়, শীতেও তাঁদের বিশেষ নজর দিতে হয়। বানানোর উপায়: ভেজানো মুসুর ডাল বাটা, ১ চামচ নিম পাতার গুঁড়ো এবং ১ চামচ টক দই ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।উপকারিতা: মুসুর ডাল মরা চামড়া পরিষ্কার করে, নিম পাতা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং টক দই অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ কমিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখে। উপটান ব্যবহারের সঠিক নিয়ম:১. মুখে উপটান লাগানোর আগে ভালো করে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
২. প্যাকটি মুখে লাগিয়ে হালকা হাতে বৃত্তাকার গতিতে ২-৩ মিনিট ম্যাসাজ করে ১৫ মিনিটের জন্য ছেড়ে দিন।
৩. শুকিয়ে কাঠ হতে দেবেন না; আধ-শুকনো অবস্থায় হালকা ইষদুষ্ণ জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
৪. সপ্তাহে মাত্র ২ দিন এই উপটান ব্যবহারে হালকা শীতেও আপনার ত্বক থাকবে উজ্জ্বল, মসৃণ ও প্রাণবন্ত! প্রিমিয়াম আয়ুর্বেদিক উবটান প্রোডাক্টস (DailyHunt শপিং সাজেশন) যাঁরা ব্যস্ততার কারণে বাড়িতে উবটান বানানোর সময় পান না, তাঁদের জন্য বাজারে উপলব্ধ সেরা কিছু আয়ুর্বেদিক উবটান ফেসপ্যাক ও স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *