ঘরের কোণে রাখা এই ১টি সস্তা জিনিসই মশার যম! রাসায়নিক কয়েল ছাড়াই বাড়ি থেকে পালাবে ডেঙ্গুর বাহক

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘরবাড়িতে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়া এক মারাত্মক সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। শুধু যে রাতের ঘুম হারাম করা বা কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করাই মশার কাজ, তা নয়; ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং চিকনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগের প্রধান কারণই হলো এই ক্ষুদ্র কীট। মশা তাড়াতে আমরা অনেকেই বাজারচলতি রাসায়নিক কয়েল বা লিকুইড স্প্রে ব্যবহার করে থাকি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েলের এই বিষাক্ত ধোঁয়া ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
তাই কোনো প্রকার ক্ষতিকর কেমিক্যাল ছাড়াই কেবল রান্নাঘরের কিছু সাধারণ উপাদান দিয়ে কীভাবে ঘরেই মশার কামড় থেকে মুক্তি পাবেন, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক।
১. লবঙ্গ ও লেবুর জাদুকরী টোটকা
মশা তাড়ানোর অন্যতম প্রাচীন ও অত্যন্ত কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক উপায় হলো লেবু ও লবঙ্গের ব্যবহার। একটি পাতিলেবুকে মাঝখান থেকে দুই টুকরো করে কেটে নিন। এরপর লেবুর কাটা অংশের ওপর বেশ কয়েকটি লবঙ্গ গেঁথে দিন। এই লেবু-লবঙ্গ জোড়াটি ঘরের কোণায়, জানলার পাশে বা টেবিলের ওপর রেখে দিন। লবঙ্গ ও লেবুর তীব্র গন্ধ মশা সহ্য করতে পারে না এবং ঘরের আসেপাশ থেকে দ্রুত সটকে পড়ে।
২. কর্পূর ও নিম তেলের প্রদীপ
রাসায়নিক লিকুইডের চমৎকার প্রাকৃতিক বিকল্প হতে পারে কর্পূর। ঘরের সব দরজা-জানালা বন্ধ করে একটি মাটির প্রদীপে নিম তেল ঢেলে তাতে সামান্য কর্পূর গুঁড়ো ছড়িয়ে জ্বালিয়ে দিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘর বন্ধ রাখুন। নিম তেল ও কর্পূরের ধোঁয়ায় ক্ষতিকারক মশা সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে যাবে অথবা অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকবে। এই ধোঁয়া মানুষের শ্বাসযন্ত্রের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
৩. রসুন ও পুদিনা পাতার প্রাকৃতিক স্প্রে
কয়েক কোয়া রসুন ভালো করে থেঁতো করে জলে ফুটিয়ে নিন। এরপর সেই জল ঠান্ডা করে একটি স্প্রে বোতলে ভরে ঘরের বিভিন্ন কোণে, পর্দার পেছনে ও বারান্দায় স্প্রে করুন। রসুনের কড়া গন্ধ মশা দূর রাখতে দারুণ কাজ করে। একইভাবে পুদিনা পাতার রস বা পিপারমিন্ট অয়েল (Peppermint Oil) জলে মিশিয়ে স্প্রে করলেও মশার উপদ্রব নিমেষে কমে যায়।
৪. ঘরে গাছ লাগানো ও জল জমতে না দেওয়া
আপনার ড্রয়িং রুম বা বারান্দায় তুলসী, গাঁদা ফুল, ক্যাটনিপ বা লেমনগ্রাসের মতো কিছু ছোট ছোট ইনডোর প্ল্যান্ট রাখতে পারেন। এই গাছগুলোর স্বাভাবিক সুবাস মশাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া মনে রাখবেন, টবের জমা জল, এসি বা কুলারের জল নিয়মিত পরিষ্কার না করলে মশার বংশবৃদ্ধি বন্ধ করা অসম্ভব।
বিষাক্ত কয়েলের ধোঁয়া এড়িয়ে এই সহজ ও সাশ্রয়ী ঘরোয়া টোটকাগুলো আজই ট্রাই করুন এবং নিজের পরিবারকে মশাবাহিত রোগের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখুন!