পুরোনো কম্পিউটার-এসি বেচেই লক্ষ লক্ষ টাকা লক্ষ্মীলাভ! হাওড়া ডিভিশনের এ কোন অভাবনীয় রেকর্ড?

পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক অভূতপূর্ব নজির তৈরি করল পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অকেজো ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে মাত্র এক মাসেই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে তারা। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে পরিচালিত এই বিশেষ ই-বর্জ্য নিষ্পত্তির উদ্যোগে হাওড়া ডিভিশন আয় করেছে মোট ২০.৮২৬ লক্ষ টাকা। যেখানে এই নির্দিষ্ট মাসের জন্য পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ৫ লক্ষ টাকা! অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার ৪.১৭ গুণ বেশি আয় নিশ্চিত করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে এই ডিভিশন।
ঠিক কী কী ই-বর্জ্য বিক্রি হলো নিলামে?
রেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে হাওড়া ডিভিশন থেকে মোট ২০.৬৮৪ মেট্রিক টন অকেজো ও বাতিল ইলেকট্রনিক সামগ্রী সরিয়ে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। এই সংগৃহীত বর্জ্যের তালিকায় ছিল:
দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও জেরক্স মেশিন,
বিকল মনিটর, কার্ড রিডার,
পুরোনো এসি, ওয়াটার কুলার, ইউপিএস-সহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ইলেকট্রনিক সামগ্রী।
রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি পুনরুদ্ধার জায়গা
ই-বর্জ্য নিষ্পত্তির এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন রেলের কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব এসেছে, তেমনই অন্যদিকে ডিভিশনের বিভিন্ন অফিস ও পরিচালন কেন্দ্রগুলোতে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা মেঝের জায়গা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে পূর্ব রেলের কর্মীদের জন্য একটি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও আরও বেশি কার্যকরী কর্মপরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ডিআরএম ও সিপিআরও-র বিশেষ বক্তব্য
হাওড়া ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) বিশাল কাপুর এই অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিক ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্ক্র্যাপ ও আবর্জনা সরিয়ে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কর্মপরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
অন্যদিকে, পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শিবরাম মাঝি জানান, এই সাফল্য প্রমাণ করে যে পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা রেখে এবং টেকসই বর্জ্য নিষ্পত্তি নীতি মেনে কীভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন ও ইতিবাচক কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলতে পারে। হাওড়া ডিভিশনের এই মডেল আগামী দিনে ভারতের অন্যান্য রেলওয়ে ডিভিশনগুলির কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।