মাঠে নামতেই শুভমন গিলের কানের পাশে এ কী যন্ত্র! মারাত্মক কোনো রোগ নাকি অলৌকিক প্রযুক্তি? জানুন আসল সত্য

ভারত-নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এক ভিন্ন কারণে ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন ভারতীয় তারকা ব্যাটার শুভমন গিল। মঠের মধ্যে ফিল্ডিং ও ব্যাটিং করার সময় তাঁর কানের ঠিক ওপরে, কপালে লাগানো এক অদ্ভুত ধাতব যন্ত্র দেখে কৌতূহল চড়েছে তুঙ্গে। হঠাৎ গিলের মাথায় এমন যন্ত্র দেখে অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন— তবে কি কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হলেন এই উদীয়মান ক্রিকেটার? নাকি এটি কোনো আধুনিক ফিটনেস গ্যাজেট?
কী এই রহস্যময় ডিভাইস?
শুভমন গিলের কপালের পাশে লাগানো ওই ছোট্ট ও চকচকে ধাতব ডিভাইসটি আসলে কোনো চিকিৎসার সরঞ্জাম নয়। এটি একটি অত্যাধুনিক ‘ওয়্যারেবল হেলথ-টেক’ (Wearable Health-Tech) গ্যাজেট, যার নাম ‘Temple’। জনপ্রিয় খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জোম্যাটোর (Zomato) সহ-প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েলের বিশেষ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে এই হাই-টেক ডিভাইসটি।
সাধারণ স্মার্টওয়াচ থেকে কীভাবে আলাদা?
আজকাল বাজারে থাকা সাধারণ স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ব্যান্ডগুলি কেবল হৃদস্পন্দন (Heart rate), ঘুমের সময়সীমা ও দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তার হিসাব রাখে। কিন্তু ‘Temple’-এর কাজ অনেকটাই ভিন্ন ও গভীরে।
এটি মূলত মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের সূক্ষ্ম পরিবর্তন এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় সংকেত পর্যবেক্ষণ করে।
কানের পাশের অংশে অপটিক্যাল সেন্সরের (আলো-ভিত্তিক সেন্সর) সাহায্যে রক্ত সঞ্চালনের সংকেত সংগ্রহ করে এই ডিভাইস।
এর মাধ্যমে একজন অ্যাথলিট কতটা মানসিক চাপ অনুভব করছেন, তাঁর মনোযোগের স্তর কতটা এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর শরীর কীভাবে তা রিকভার করছে—সেই সম্পর্কিত নিখুঁত ডেটা পাওয়া যায়।
গিলের মতো ক্রীড়াবিদদের জন্য কেন এটি জরুরি?
ক্রিকেটের মতো হাই-প্রেশার গেমে দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে মনোযোগ ধরে রাখা এবং মানসিক ও শারীরিক ধকল সামলানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাই শুভমন গিলের মতো আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলিটরা তাঁদের ট্রেনিং, বিশ্রামের সময়সূচি ও রিকভারির ধরন আরও উন্নত করতেই এই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন। উল্লেখ্য, গিলের আগে ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধুকেও অনুশীলনের সময় এই ‘Temple’ ডিভাইসটি ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল।
দাম কত এবং এটি কি কোনো ব্রেন স্ক্যানার?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের বাজারে ডিভাইসটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৫ হাজার টাকা এবং গত ১ নভেম্বর থেকেই এর প্রাক-বুকিং বা প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এটি কোনো প্রচলিত ব্রেন স্ক্যানার বা ইইজি (EEG) যন্ত্র নয়। মস্তিষ্কের কোনো রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার কাজেও এটি ব্যবহার করা যায় না। স্রেফ অ্যাথলিটদের পারফরম্যান্স ও ফিটনেস ট্র্যাকিংয়ের উদ্দেশ্যে তৈরি এই গ্যাজেটটির কার্যকারিতা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দাবি নিয়ে এখনও নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও যাচাই প্রক্রিয়া জারি রয়েছে।