“আমেরিকা না চাইলে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হব!” ভোটের মুখেই এ কী মন্তব্য ট্রাম্পের? তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি!

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) ভোট গণনা শুরু হতেই চরম বিপাকে রিপাবলিকান শিবির। জর্জিয়া ও ভার্জিনিয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি একাধিক লাল দুর্গ ভেঙে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ মারাত্মক বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই ইজরায়েল সংক্রান্ত এক অদ্ভুত রসিকতা ও বিস্ফোরক নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বিশ্বজুড়ে জল্পনা উস্কে দিলেন ট্রাম্প।

“ইজরায়েলে আমার অ্যাপ্রুভাল রেটিং ৯৯ শতাংশ!”মঙ্গলবার ‘ফক্স নিউজ’-এর (Fox News) এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন মুলুকে তাঁর ক্রমশ নিম্নমুখী জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন ট্রাম্প। তার জবাবে স্বভাবসিদ্ধ মেজাজে রসিকতা করে ট্রাম্প দাবি করেন, “ইজরায়েলে আমার অ্যাপ্রুভাল রেটিং নাকি ৯৯ শতাংশ! আমেরিকার মানুষ যদি আমাকে নিয়ে ক্লান্ত বা হতোদ্যম হয়ে পড়েন, তবে আমি সোজা ইজরায়েল চলে যাব এবং সেখানকার প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাব!” ট্রাম্পের এমন অনভ্যাসে ও চমকপ্রদ মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে জোর চাউর তৈরি হয়েছে।ইজরায়েলকে ৪ বিলিয়ন ডলারের অনুদান বন্ধের সিদ্ধান্তকেবল জল্পনা উসকানিতেই ক্ষান্ত থাকেননি ট্রাম্প, ওই একই অনুষ্ঠানে তিনি এক বড়সড় নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা খোলসা করেন।

ট্রাম্প জানান, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বিশেষ কথা হয়েছে এবং চলতি ২০২৬ সালের শেষ থেকেই ইজরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক ৪ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩৩,০০০ কোটি টাকা) সরকারি অর্থসাহায্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে আমেরিকা।ট্রাম্পের দাবি, “ইজরায়েল এখন অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা সামলানোর দিক থেকে অত্যন্ত স্বাবলম্বী এবং সমৃদ্ধ এক দেশ, তাদের আর এই মার্কিন অনুদানের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে তারা নিজেদের অস্ত্র নিজেরাই কিনতে পারে।”তীব্র বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ চাপউল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবহে ইজরায়েলকে কোটি কোটি ডলারের মার্কিন করদাতাদের অর্থ জোগান দেওয়া নিয়ে নিজ দেশেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। বিরোধীরা তো বটেই, এমনকি মার্কিন ডেমোক্র্যাট ও প্রগতিশীল শিবির এই ৪ বিলিয়ন ডলারের সাহায্যকেই সরকারের বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছিল।

সেই রাজনৈতিক হাতিয়ার কাড়তেই ট্রাম্প ইজরায়েলকে দেওয়া অনুদান বন্ধের সিদ্ধান্ত ত্বরান্বিত করেছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ট্রাম্প আশ্বস্ত করেছেন, সরাসরি আর্থিক সাহায্য বন্ধ করলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন দেখা দিলে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ইজরায়েলকে সবরকম সহযোগিতা দেবে ওয়াশিংটন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *