১৪ বছরের কম বয়সের শিশুদের কাজ করানো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিরাট সিদ্ধান্ত! কেন্দ্র ও সব রাজ্যকে কড়া নির্দেশ

দেশজুড়ে শিশুশ্রম পুরোপুরি নির্মূল করতে এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করতে কেন্দ্র সরকারকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের সচিবকে অবিলম্বে একটি বিশেষ নজরদারি সেল (Special Cell) গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে। এই বিশেষ সেলটি দেশজুড়ে ‘শিশু ও কিশোর শ্রম (নিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন’-এর প্রয়োগ প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করবে এবং আইনের প্রতিটি ধারা যাতে কঠোরভাবে মেনে চলা হয় তা নিশ্চিত করবে।
পাশাপাশি, কেন্দ্র সরকারকে ভারতের সমস্ত রাজ্যের মুখ্য সচিবদের মাধ্যমে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনিক ই Enforcement এজেন্সিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তৃণমূল স্তরে এই আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো ফাঁকফোকর না থাকে।
কোন আইনি ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল?
বিচারপতি এসভিএন ভাট্টি এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের একটি দ্বিপক্ষীয় বেঞ্চ শিশুশ্রম সংক্রান্ত একটি মামলার নিষ্পত্তি করতে গিয়ে এই ঐতিহাসিক নির্দেশ দেন। দায়ের করা ওই জনস্বার্থ আবেদনটিতে ‘শিশু ও কিশোর শ্রম আইনের ৩ নম্বর ধারা সহ একাধিক মূল বিধানকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, মূল আইনের ৩ নম্বর ধারায় কেবল নির্দিষ্ট কিছু বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজেই শিশুদের নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, অন্যান্য সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে এই বাধা স্পষ্ট ছিল না।
২০১৬ সালের ঐতিহাসিক সংশোধন ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
মামলার শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালে শিশুশ্রম আইনে আনা গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরে। ওই সংশোধনী অনুযায়ী:
সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা: ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের যেকোনো ধরনের কাজ, কারখানা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে নিয়ম: তবে আইনের শর্ত মেনে স্কুলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কিংবা ছুটির দিনে, বিপজ্জনক নয় এমন পারিবারিক ব্যবসায় পরিবারকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ের কথা উল্লেখ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ২০১৬ সালের সংশোধনী আইনটি ইতিমধ্যে আরও অনেক বেশি যুগোপযোগী ও কঠোর করা হয়েছে। তাই মূল পিটিশনে ওঠা পুরনো দাবিগুলির প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও, এই সংশোধিত আইনটি দেশজুড়ে সঠিকভাবে কার্যকর করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সর্বোচ্চ আদালতের এই কঠোর অবস্থানের পর দেশে শিশুশ্রম রুখতে প্রশাসন আরও তৎপর হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।