পেনশনভোগীদের জন্য বিরাট স্বস্তি! রেলের বিশেষ উদ্যোগে মাত্র দু’দিনেই শ শ প্রবীণ নাগরিক জমা দিলেন ডিজিটাল জীবন সার্টিফিকেট

পেনশনভোগীদের জীবন আরও সহজ ও ঝামেলাহীন করতে বড়সড় উদ্যোগ নিল পূর্ব রেল। দেশজুড়ে চলা ‘ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট ক্যাম্পেন ৫.০’ (Digital Life Certificate Campaign 5.0)-এর দ্বিতীয় দিনেই অভাবনীয় সাড়া মিলল। রেলের চালু করা বিশেষ হেল্পলাইন সেন্টারের মাধ্যমে মাত্র একদিনেই সফলভাবে তাঁদের ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট (DLC) জমা দিলেন ৩১০ জন প্রবীণ পেনশনভোগী।
দেশজুড়ে বিশেষ ক্যাম্পেন ও পূর্ব রেলের হেল্পলাইন
চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে এই ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট ক্যাম্পেন। এই মেগা অভিযানের অংশ হিসেবে পূর্ব রেলের সদর দফতরের অধীনে থাকা চারটি প্রধান বিভাগ—হাওড়া, শিয়ালদহ, আসানসোল ও মালদা এবং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্কশপ—কাঁচরাপাড়া, লিলুয়া ও জামালপুরে বিশেষ হেল্পলাইন সেন্টার খোলা হয়েছে।
প্রধানত বয়স্ক পেনশনভোগীরা যাতে কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত জটিলতা ছাড়াই ঘরে বসে বা কাছাকাছি কেন্দ্রে গিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন, তার জন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থা। ক্যাম্পেনের দ্বিতীয় দিনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলিতে রেলের অভিজ্ঞ কর্মীদের সরাসরি সহায়তায় ৩১০ জন পেনশনভোগী নির্বিঘ্নে তাঁদের সার্টিফিকেট জমা দিতে সক্ষম হয়েছেন।
কেন্দ্রভিত্তিক জমা দেওয়ার পরিসংখ্যান
পূর্ব রেলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগ ও ওয়ার্কশপগুলিতে দ্বিতীয় দিনে সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার খতিয়ানটি নিম্নরূপ:
মালদা বিভাগ: ৭৩ জন
জামালপুর ওয়ার্কশপ: ৬৯ জন
আসানসোল বিভাগ: ৫৮ জন
কাঁচরাপাড়া ওয়ার্কশপ: ৪৫ জন
লিলুয়া ওয়ার্কশপ: ২৬ জন
পূর্ব রেল সদর দফতর: ১৫ জন
শিয়ালদহ বিভাগ: ১৪ জন
হাওড়া বিভাগ: ১০ জন
রেলের তরফ থেকে বিশেষ সহযোগিতা
পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সদর দফতরের হেল্পলাইন ছাড়াও পেনশনভোগীরা তাঁদের নিকটবর্তী যেকোনো বিভাগীয় অফিস বা ওয়ার্কশপের হেল্পলাইন সেন্টারে গিয়ে এই বিষয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় সাহায্য নিতে পারবেন। এই ক্যাম্পেন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য বা বিস্তারিত জানতে পেনশনভোগীদের জন্য রেলের পক্ষ থেকে সরকারি পোর্টাল (https://ipension.nic.in/dlcportal) দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, প্রবীণ পেনশনভোগীরা যাতে কোনো ধরনের ঝঞ্ঝাট বা হয়রানির মুখে না পড়েন এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুবিধাজনক হয়, তার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।