আমেরিকায় ট্রাম্পের শিরে সংক্রান্তি? মধ্যবর্তী নির্বাচনে হোঁচট খেয়ে কি গদি টিকবে প্রেসিডেন্টের?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদের অর্ধেকমাস পেরোতেই শুরু হয়েছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। মার্কিন মুলুকে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচন বা ‘মিডটার্ম ইলেকশন’-এর প্রাথমিক ও লাইভ ট্রেন্ডে বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে—তা নির্ধারণে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২৩ কোটিরও বেশি মার্কিন নাগরিক। আর এই নির্বাচনের ফলাফলই ট্রাম্পের বাকি দু’বছরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে চলেছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের দাপট

মার্কিন কংগ্রেসের দুটি প্রধান কক্ষ—হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (নিম্নকক্ষ) এবং সেনেট (উচ্চকক্ষ)। প্রাপ্ত আপডেট অনুযায়ী, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সেনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে চলেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির। এ ছাড়াও টেক্সাস, কানসাস, ওকলাহোমা ও মিশিগান-সহ আমেরিকার ৩৬টি রাজ্যে নতুন গভর্নর নির্বাচনের জন্যও ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

নির্বাচনে সরাসরি প্রেসিডেন্টের পদে ভোট না হলেও, এই মিডটার্ম ইলেকশনকে মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম দু’বছরের কাজের ‘জনগণনা বা গণভোট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারলে ট্রাম্পের প্রশাসনিক ক্ষমতা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যেতে পারে।

ট্রাম্পের সামনে কী কী বড় বিপদ ও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে?

  1. তৃতীয়বার ইমপিচমেন্টের জুজু: অতীতে দু’বার ইমপিচমেন্টের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ কায়েম হলে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নতুন করে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব ও আইনি প্রক্রিয়া জোরালো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  2. একাধিক কড়া তদন্তের মুখোমুখি প্রশাসন: ডেমোক্র্যাটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি নীতি এবং পরিবারের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে একাধিক সংসদীয় তদন্ত ও সাবপিনা (নথি তলব) জারি করতে পারে।

  3. আইন প্রণয়নে বাধা ও অচলাবস্থা: সেনেট বা হাউসে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য থাকলে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বহু বিল ও নীতি মাঝপথেই আটকে যেতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ‘ভেটো’ দেওয়ার ক্ষমতা এবং এক্সিকিউটিভ অর্ডার জারির অস্ত্র হাতে থাকবে।

  4. বিচারপতি ও উচ্চপদস্থ নিয়োগে জটিলতা: সেনেটের অনুমোদন ছাড়া কোনো বড় পদে বা বিচারপতির চেয়ারে পছন্দমতো নিয়োগ করা ট্রাম্পের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন আসলে কী?

প্রতি দুই বছর অন্তর মার্কিন প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের ঠিক মাঝপথে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয় মার্কিন আইনসভার দুই কক্ষে কোন দলের আধিপত্য থাকবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের এই উত্থান হোয়াইট হাউসের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে নতুন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *